রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

শিল্প-বাণিজ্যের এক শ্রেষ্ঠ বাঙালি নেতা
হারাধন চৌধুরী

‘সাইকেল’ দখলের লড়াই নামক পিতা-পুত্রের ধামালি কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে। মুলায়ম সিংকে পরাস্ত করে জিতেছেন অখিলেশ যাদব। নির্বাচনী যুদ্ধ শেষে ১১ মার্চ জানা যাবে—অখিলেশ ও রাহুল (গান্ধী) নামক এই সাইকেলের দুই চাকার গতি বাস্তবে কতটা, যে দূষণহীন দ্বিচক্রযানের দখল নিয়ে এত নাটক সেটি নরেন্দ্র মোদির হুংকার কিংবা কুমারী মায়াবতীর হাতির দাপাদাপির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে কি না। এ হল ক্ষমতার কুরসি পর্যন্ত পৌঁছানোর এক বাহন। বাংলার রাজনীতিতে এটিকে অদ্যাবধি স্বাগত জানায়নি কেউ। তবে সদ্য স্বাধীন ভারতে সর্বার্থে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ নামক রাজ্যটি মুষ্টিমেয় যে-ক’টি আধুনিক শিল্পের উপর ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল, সাইকেল তার একটি। সারা ভারতে আধুনিক উন্নত মানের সাইকেল শিল্পের ভিত্তি রচিত হয়েছিল যাঁর হাতে তাঁকে খুব বেশি মানুষ মনে রেখেছে বলে মনে হয় না। তিনি সুধীরকুমার সেন। আগামীকাল বুধবার তাঁর ১৩০তম জন্মদিন। কিছুদিন আগে মহাসমারোহে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন হল। কিন্তু, তার কোথাও সুধীরকুমারের নাম উচ্চারিত হয়েছে বলে শুনিনি। অথচ তিনি ওই বিদ্যায়তনেরই এক উজ্জ্বল প্রাক্তনী। উৎসবের অবসরে যেসব বিশিষ্ট প্রাক্তনীর মুখে প্রচারের চড়া আলো পড়ল, দেশ ও বাংলার জন্য সুধীরকুমারের অবদান তাঁদের কারও চেয়ে এতটুকুও কম নয়। অর্থাৎ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে—শিল্প ব্যাবসা বাণিজ্য সম্পর্কে বাঙালির অ্যাটিটিউড এবং প্রকৃত প্রতিভাধর চেনার ব্যাপারে তার দৃষ্টিহীনতা ব্যাধিটি রয়ে গিয়েছে যথা পূর্বই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রতি বছর বাংলায় শিল্পসম্মেলন হচ্ছে। তাঁর স্বপ্ন বেঙ্গল লিড করবে। কিন্তু, নিজেদের গর্বের অতীতের দিকে পিছন ফিরে থেকে লক্ষ্যে পৌঁছানো চেষ্টা কতটা যুক্তিসংগত কে জানে! এই সম্মেলন থেকে প্রতি বছরই রাজ্যে বিনিয়োগের ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়। বাস্তব রূপ পায় কিন্তু তার সামান্যই। আর শিল্পবিনিয়োগ বাস্তবে যতটুকু হয় তাতে আজকের বঙ্গসন্তানদের অংশগ্রহণ যে উল্লেখযোগ্য নয়, তা বলাই বাহুল্য। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ মতবাদের প্রচারক হওয়ার দরকার নেই। তবু ফেলে-আসা-দিনের কিছু ভালো কথা, উল্লেখযোগ্য কাজ, বরণীয় ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করাটা অবশ্যকর্তব্য। তাতে অনুপ্রেরণা মেলে। বিশেষত আমাদের এই গুরুবাদী দেশে সামনে গুরুতুল্য আদর্শ কিছু একটা না-থাকলে সবটাই কেমন ধোঁয়াশা।
চণ্ডীচরণ সেন ও বামাসুন্দরী দেবীর সন্তান সুধীরকুমারের জন্ম ১৮৮৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়। সুধীরকুমার প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ. পড়েন। প্রফেসর পার্সিভালের শিক্ষা তাঁকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। তাঁর সহপাঠীদের অনেকেই পরবর্তীকালে নানা ক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতিমান হন—যেমন প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ। প্রেসিডেন্সি ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক হন যথাক্রমে রাজেন্দ্র প্রসাদ ও সুধীরকুমার। সুধীরকুমার গর্বের সঙ্গে বলতেন, প্রেসিডেন্সিই তাঁর জীবনের ভিত সুদৃঢ় করে দিয়েছিল।
বিতর্কসভা এবং খেলাধুলায় অংশ নিয়েও সুধীরকুমার সকলের নজর কেড়ে নিতেন। ১৯০৫ সালে আন্তঃকলেজ বাইসাইকেল চালনা প্রতিযোগিতায় তিনি ফার্স্ট হন। উল্লেখ্য যে, ভারতে সাইকেলের ব্যবহার তখন সবে শুরু হয়েছে। যথাসময়ে কৃতিত্বের সঙ্গে গ্রাজুয়েট হয়েও তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার পথ পরিহার করেন। এমনকী প্রভিন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ সার্ভিসে জয়েন করার সুযোগও স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করেন তিনি। একদিকে স্বদেশি আন্দোলনের জোয়ার, অন্যদিকে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের আহ্বান—এই দুইয়ে মিলেই যেন তাঁর ভাগ্যনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেল। প্রথম যৌবনেই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেন—স্বাধীন ব্যাবসাই করবেন। ব্যাবসা বাণিজ্য শিল্পে বাঙালির অধিকার কতখানি তা তিনি সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন স্যার আর এন মুখার্জিকে সামনে থেকে দেখে। কলেজজীবনে ভালোলাগার জিনিস বাইসাইকেলের ব্যাবসা দিয়েই ১৯১০ সালে শুরু হল তাঁর লক্ষ্মীর সাধনা।
কলকাতাবাসী প্রথম সাইকেল দেখেছিল ১৮৮৯ সালে। তখন এবং তার পরেও কিছুকাল হাতে গোনা কয়েকটি সাইকেল আসত ইউরোপ থেকে। সেগুলি বিক্রিও হত সাহেবদের দোকান মারফত এবং ভয়ংকর দামে। তারই মধ্যে বিংশ শতকের একেবারে গোড়ার দিকে হ্যারিসন রোডে সাইকেল বিক্রির দোকান খুলে বসেন বিখ্যাত শিল্পোদ্যোগী এইচ বোস। সাইকেল ব্যাবসায় সেটিই প্রথম বাঙালি উদ্যোগ। তাঁর দোকান থেকে একটি সাইকেল কেনার সৌভাগ্য হয়েছিল সুধীরকুমারেরও। তখন সাধারণ ভারতবাসীর কাছে সাইকেল এক কৌতূহলের বিষয় ও অভিজাত সামগ্রী হিসাবেই গণ্য হ’ত। কিন্তু, সুধীরকুমার যথার্থই বুঝেছিলেন, এই পরিস্থিতি নিতান্তই সাময়িক। কয়েক বছরের মধ্যে সাইকেলই হয়ে উঠবে সাধারণের সাধ্যের মধ্যে একটি অত্যন্ত কাজের যান। অতএব নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের মাত্র চারশো টাকা আর অযাচিতভাবে-এগিয়ে-আসা ব্যাংকার পার্টনার রামচন্দ্র পণ্ডিতের কিছু টাকা সম্বল করে ১৯১০-এ খুলে ফেলেন সেন অ্যান্ড পণ্ডিত। অবশ্য এই সংস্থার সঙ্গে রামচন্দ্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবু রামচন্দ্রের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা বজায় রেখেই সাইকেল ব্যাবসা সুধীরকুমার একাই এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। সেকালে ইংলন্ডের ‘বাইং হাউস’ ও ‘ইনডেন্টিং এজেন্ট’ ছাড়া সে-দেশের সাইকেল ভারতে আমদানি হ’ত না। সাহেবদের এই মনোপলি কারবারে প্রথম আঘাত হানার সাহস দেখিয়েছিলেন এই বঙ্গসন্তান। তাঁরই বুদ্ধিমত্তা সততা সংযম অধ্যবসায়ের জোরে ভারতে সাইকেল ব্যাবসায় বাঙালির নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র দশ বছরের মধ্যে। সুধীরকুমারের নেতৃত্বে ভারতই হয়ে উঠেছিল ইংলন্ডের সাইকেলের বৃহত্তম বাজার। সেই সাফল্য প্রসারিত হয়েছিল বর্মামুলুক ও সিংহলে।
সাইকেল ও তার ব্যাবসা সম্পর্কে সমস্ত খবর জোগাড়ের নেশায় সুশিক্ষিত সুধীরকুমার নিয়ম করে ইংলন্ড, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের নানা দেশে যেতেন, সেখানকার শিল্প-বাণিজ্য মহলের সঙ্গে মতের আদান-প্রদান করতেন। সাইক্লিস্টদের সংগঠন ও সাইক্লিং বিষয়ে পত্রিকাও পরিচালনা করতেন। সব মিলিয়ে সুধীরকুমারের গ্রহণযোগ্যতা এমন উচ্চতায় পৌঁছায় যে—র‌্যালে, হারকিউলিস, বিএসএ-সহ সেকালের অনেক বিখ্যাত বিদেশি কোম্পানি তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে কৃতার্থ হ’ত। একইভাবে লালায়িত হতেন বম্বে, মাদ্রাজ, নাগপুর, ঢাকা, করাচির কারবারিরাও। তিনি নিতান্ত ভদ্র সজ্জন হলেও ছিলেন অসীম সাহসী। তাই কোনও বিলাতি সংস্থাও তাঁর সঙ্গে অন্যায় করে পার পায়নি।
সুধীরকুমারের কারবার এতটাই প্রসারিত হয়েছিল যে ইংলন্ড, জার্মানি, বর্মা, সিংহল প্রভৃতি দেশে এবং ভারতের নানা প্রদেশে তাঁর সংস্থার অফিস খুলতে হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপ থেকে সাইকেল আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও দমে যাননি। দেশের ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে ’১৫ সালে জাপানে পাড়ি দেন। কিন্তু, জাপানি সাইকেলের কোয়ালিটি বিলাতির তুল্য ছিল না। ফলে, জাপানি সাইকেল জনপ্রিয় হয়নি। আর সুধীরকুমারও কোয়ালিটির সঙ্গে আপস করার পক্ষপাতী ছিলেন না; এমনকী স্বদেশির নামেও নিকৃষ্টমানের পণ্য বিক্রির বিরোধী ছিলেন। দেশের মাটিতে নিজেই সাইকেল তৈরি করার স্বপ্ন নিয়ে ’২০ সালে সাইকেল প্রোডাকশনস লিঃ গড়েন। কিন্তু, অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষটি সার বুঝেছিলেন—সাহেবদেরর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার দখল করার মতো গুণমানে উন্নত সাইকেল তৈরির ক্ষেত্র এখনও প্রস্তুত নয়। অতএব সাময়িক বিরতিই শ্রেয়। এর পর থেকে ’৪১ সালের মধ্যে সারা ভারতে আরও চারজন উদ্যোগী সাইকেল তৈরির কারবারে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাঙালি আই সি গুপ্তও। পরাধীন দেশের শিল্পনীতি দেশীয় শিল্পবিকাশের অন্তরায় ছিল। তবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ওইগুলির মধ্যে তিনটি সংস্থা দেশের বেশকিছু জরুরি প্রয়োজন মিটিয়েছিল যথেষ্ট কৃতিত্বের সঙ্গে।
’৩৯-এর ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তার ধাক্কা এসে লাগল ভারতের আমদানিনির্ভর সাইকেল ব্যাবসাতেও। কারণ, যুদ্ধকালে ইউরোপের সর্বত্রই উৎপাদন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ল। ’৪২-এ বন্ধই হয়ে গেল বিলাতি পণ্যের আমদানি। সমস্যা বহুগুণ হল জ্বালানি তেলের সংকট তীব্রতর হওয়ায়। ’৪৫-এ যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। স্বভাবতই সাইকেলের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকল। সুধীরকুমার বুঝলেন, এটি হল সাইকেল শিল্পের জন্য যুদ্ধের পরোক্ষ আশীর্বাদ! বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার দু’বছরের মধ্যে ভারত স্বাধীন হল। প্রথম শিল্পমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ঘোষিত শিল্পনীতিতে আশান্বিত হলেন সাইকেল উৎপাদনে আগ্রহীরা। সুধীরকুমার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য জমা দিলেন ও শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে দেখা করলেন।
’৪৮-এর ৩ নভেম্বর সুধীরকুমার একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন ইংলন্ডের সবচেয়ে মজবুত ও জনপ্রিয় বাইসাইকেল কোম্পানি র‌্যালে ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে। র‌্যালের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আর সুধীরকুমার সেনের ঈর্ষণীয় পরিচালন দক্ষতার সম্মিলনে ভূমিষ্ঠ হল ভারতের সেরা সাইকেল কোম্পানি সেন-র‌্যালে। ১৯৫১-র ২৫ মার্চ কন্যাপুরে এই ষাটোত্তীর্ণ ‘যুবক’ তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। নিজের কারখানায় সম্পূর্ণ বাইসাইকেল তৈরি করার ব্যাপারে তিনি দৃঢ়সংকল্প ছিলেন। কিন্তু, অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশ চেন ও স্যাডল তৈরি করে না র‌্যালে। অতএব যন্ত্রাংশ দুটি তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সেন-র‌্যালে জার্মানির দুটি নামী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হল। অর্থাৎ সেন-র‌্যালে পূর্ণতা লাভ করেছিল ব্রিটেন ও জার্মানির সহযোগিতায় গঠিত একটি ভারতীয় শিল্পোদ্যোগ হিসাবে। আর এই স্বয়ংসম্পূর্ণ সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ’৫২-র ২১ জুন। ‘রবিনহুড’ ব্র্যান্ডের সাইকেল দিয়ে ওই বছর অক্টোবরে সেন-র‌্যালে কারখানায় উৎপাদনের শুভ সূচনা হয়। পর্যায়ক্রমে র‌্যালে, হাম্বার ও রাজ ব্র্যান্ডও বাজারে আনে সংস্থাটি। প্রায় একই সময়ে মাদ্রাজেও প্রস্তুত হতে থাকে ‘টিআই’ কোম্পানির ফিলিপস ও হারকিউলিস সাইকেল। এছাড়া কমবেশি কমপ্লিট সাইকেল উৎপাদন ছিল অ্যাটলাস, ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্থান কোম্পানির। তবে সারা ভারতের শিল্পমহল নির্দ্বিধিায় মেনে নিয়েছিল যে ভারতে সাইকেল ব্যাবসা তথা সাইকেল শিল্পের সঙ্গে এস কে সেন নামটি সমার্থক হয়ে গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক তিনিই। তাই সেন-র‌্যালের একাধিক প্রতিযোগী থাকলেও কন্যাপুর সাইকেল-শিল্পনগরীর উপরেই ভারতের সাইকেল শিল্প ও ব্যাবসার সাফল্য-ব্যর্থতা একান্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
আমরা আরও মনে রাখিনি যে, অ্যাডভান্স ড্রাগ লিঃ নামে একটি ওষুধ কোম্পানিও খুলেছিলেন সুধীরকুমার। এই কারবারে তাঁর পার্টনার ছিলেন গবেষক জগদীশকুমার লাহিড়ি। স্যার নীলরতন সরকারের স্বপ্নের ন্যাশনাল ট্যানারি রুগ্‌ণ হয়ে পড়লে সুধীরকুমার সেটিরও পরিচালনভার নেন। এবং, চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেন। দেশীয় চর্মশিল্পকে যথার্থ আধুনিক করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল ট্যানিং ইনস্টিটিউট—ভারতে এই ধরনের প্রথম প্রতিষ্ঠান। একটি বিমা প্রতিষ্ঠানেরও (ন্যাশনাল ইনসিওরেন্স) পত্তন হয় তাঁর হাতে। বহু কৌণিক প্রতিভার অধিকারী এই বিশিষ্ট কর্মযোগীর মৃত্যু হয় ১৯৫৯ সালের ২৮ আগস্ট পশ্চিম জার্মানির ডর্টমুর শহরে। সুধীরকুমার সেন যেখানে শেষ করেছেন, আমরা সেখান থেকেই কিছু শুরু করতে পারি না কি? শিল্প ব্যাবসা বাণিজ্যে বাংলার বন্ধ্যত্ব ঘোচানোর পক্ষে এমন উত্তম প্রেরণার হদিশ কিন্তু কমই মিলবে।

 তথ্যঋণ: সুধীরকুমার সেন জীবন-চরিত (মণি বাগচি)    




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta