রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

রাজ্যের বুকে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর
হাতে দমন করুন মমতা

শুভা দত্ত

নোটকাণ্ডের পর চলছিল রোজভ্যালি পর্ব। দুই নিয়েই বাদ-প্রতিবাদে সরগরম ছিল রাজ্য। তার মধ্যেই হঠাৎ করে ভাঙড়—অবরোধ মারদাঙ্গা রক্তারক্তি ভাঙচুর আগুন গোলাগুলি গড়িয়ে গেল খুনোখুনি অব্দি! দু-দুটো প্রাণ চলে গেল। সৌভাগ্য আমাদের যে সংখ্যাটা দুই-এ থেমে গিয়েছে, বাড়েনি। পরিস্থিতি যা ছিল অন্তত টিভিতে যা দেখা গিয়েছে, তাতে সংখ্যাটা বাড়তেই পারত। অমন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে মৃত্যুর সংখ্যাটা যে বাড়েনি তার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও প্রশাসনকে খানিকটা হলেও ক্রেডিট দিতে হবে বইকি। পুলিশ পারে না, করে না, পুলিশ ঘুষ খায়, পলিটিক্যাল লোকেদের কথায় চলে, সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে—এসব শুনতে শুনতে তো কান পচে গিয়েছে। ভাঙড়েও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে অনেকে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু, যখন উন্মত্ত হিংসার বাতাবরণ চারপাশে, উড়ে আসা ইটের ঘায়ে নাকমুখ ফেটে রক্ত ঝরছে সহকর্মীর, একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে বা দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে বা পুকুরে পড়ছে—তখন আর কিছু না হোক তাঁরা তো মৃত্যুটা ঠেকিয়েছেন। সংখ্যাটাকে দুইয়ের ওপরে উঠতে দেননি। অবশ্য, ওই দুটি অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনাও যদি ঠেকানো যেত তবে যে সবচেয়ে ভালো হত—তা বলাই বাহুল্য। ওই দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুটি হতভাগ্য পরিবারের কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল ভাবুন! এই দুই মৃত্যুতে ওই পরিবার দুটোর যে ক্ষতি হল—কেবল টাকা দিয়েই কি তা পূরণ করা যাবে? এই মৃত্যু দুটোর কি কোনও প্রয়োজন ছিল? ওই দুটি প্রাণের বিনিময়ে ভাঙড়বাসীই বা কী পাবেন! কিছুই না। শুধু কিছুদিন শোক আর ব্যথায় ভারী হয়ে থাকবে নিহতদের দুই পরিবারের ঘরদোর আকাশ বাতাস। আমরা এসব এভাবে আর কবে ভাবব বলুন তো?
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার দিনভর ভাঙড়ে যা ঘটল তার কতটা ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আর কতটা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উসকানি দিয়ে ঘটানো’ তা নিয়েও বহু মনে যথেষ্ট সংশয় জেগেছে। কেউ কেউ মঙ্গলবারের ভাঙড়ের সঙ্গে বাম আমলের নন্দীগ্রাম সিঙ্গুরের তুলনা টানছেন। টানতেই পারেন। ওঁরা হয়তো মনে করেন, বিবাদের কেন্দ্রে জমি থাকলেই নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর। বলার কিছু নেই। কিন্তু, তাতে যে গোড়ায় গলদ হয়ে যায়—সেটা বুঝুন। নন্দীগ্রাম সিঙ্গুরে আগুন জ্বালিয়েছিল তখনকার বাম সরকারের উপেক্ষা উদাসীনতা এবং সিপিএমের হার্মাদবাহিনীর অত্যাচার সন্ত্রাস। একদিন নয় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বছরের পর বছর ওই হার্মাদদের অত্যাচার সন্ত্রাসে গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষ অতিষ্ঠ নাজেহাল হয়েছেন এবং নির্বিকার থেকেছে বাম সরকারের মন্ত্রীকুল। এতে মানুষজনের বুকে তিল তিল করে যে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল তাই একদিন ফেটে পড়েছিল নন্দীগ্রাম সিঙ্গুরে। শিল্প গড়ার জন্য বাম সরকারের জমি অধিগ্রহণটা ছিল তার একটা উপলক্ষ মাত্র। আর দলদাস পুলিশ ও ক্যাডার হার্মাদদের উগ্রতা গুলি চালনা ইত্যাদিই সেদিন মানুষের সেই ক্ষোভের বারুদে আগুন জ্বালানোর কাজটি করেছিল। এবং তারপর সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ, এমনকী বিশ্বসভাতেও পৌঁছে গিয়েছিল তার বারুদগন্ধ। সিপিএম নেতৃত্বাধীন সরকারের শিল্প নিয়ে হঠকারিতা ও চূড়ান্ত জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল দেশে বিদেশে। আর সত্যি বলতে কী, সেই ঝড়েই বেসামাল হয়ে টলে গিয়েছিল ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পাকাপোক্ত ভিত। এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বামবিক্ষুব্ধ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনজোয়ার শেষপর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল লালদুর্গ। সেই সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আর এই ভাঙড়—তুলনা হয়! কিছুমাত্র মেলে?
আরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, জোর করে গরিবের জমি নিয়ে তিনি শিল্প গড়বেন না। শিল্পের জন্য ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরি করবেন। প্রথম প্রতিশ্রুতি তিনি আজ পর্যন্ত রক্ষা করেছেন। কেউ বলতে পারবেন না কোথাও মমতা সরকার জবরদস্তি জমি নিয়ে কিছু করেছেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত করেছেন তিনি। ল্যান্ড ব্যাংকে এর মধ্যেই যথেষ্ট জমি সংগ্রহ করেছেন তাঁর আধিকারিকেরা, অন্তত এক টার্মের সরকারে মানুষের ক্ষোভ এড়িয়ে যতটা করা যায়—আমার কাছে তেমনই খবর। তাহলে ভাঙড়ে সমস্যাটা কোথায়? কীসের জন্য আন্দোলন? কেন ওই হাঙ্গামা মৃত্যু! রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং উত্তরোত্তর বাড়বে। কেবল রাজ্যে কেন গোটা পৃথিবীতেই বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমবর্ধমান—কারণ মানুষ বাড়ছে, মানুষের চাহিদা বাড়ছে। তার জোগান দিতে শিল্প চাই না? তো শিল্পকারখানা চলবে কীসে? জলে না কেরোসিন তেলে!? বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ ছাড়া গতি নাই। ভাঙড় তো জগৎ ছাড়া জায়গা নয়। তারও বিদ্যুৎ চাই। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পাওয়ার গ্রিড লাগবে। হাইটেনশন তার যাবে মাইলের পর মাইল ধানখেতের ওপর দিয়ে। এ কি নতুন কথা! ট্রেনে যেতে যেতে এমন দৃশ্য সেই ছোটবেলা থেকেই কি দেখে আসছি না আমরা? হাইটেনশন তার মাথার ওপরে থাকলে সন্তানধারণে সমস্যা হয়, পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারায়—এমন কথা কোন আহাম্মক বলে? শুনছি, এমন কথা ছড়িয়েই নাকি ভাঙড়ের মানুষজনকে খেপানো হয়েছে! আশ্চর্য! সরকারের তো উচিত সবার আগে সরল গ্রামবাসীর মধ্যে এই ধরনের হাস্যকর গুজব ছড়ানোর হোতাদের ধরা এবং ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
দ্বিতীয়ত, রেজ্জাক মোল্লা আরাবুল ইসলামরাই বা কী করছেন সেখানে! বাইরে থেকে কীসব অলীক-টলিক গিয়ে গ্রামের মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন আর ওঁরা বেখেয়ালে বসে! এখন দেখছি বাইরের লোকের সঙ্গে এদের গোষ্ঠী কোঁদলও এই ঝামেলায় জড়িয়েছে! বুঝতে পারি না—এত গোষ্ঠীবাজি কেন! রাজ্যবাসীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলের আর কার মান্যতা আছে? মমতার সঙ্গে আছেন, মমতার কাজগুলো বাস্তবায়নে সাহায্য করছেন—সেজন্যই যেটুকু জনসমাদর বাকিদের। মানুষের চোখে, তৃণমূল মানেই মমতা, মমতা মানেই তৃণমূল—অনেকটা ইন্দিরা কংগ্রেসের মতো—এ রাজ্যে এই দেশে জনমনে তৃণমূলের যা কিছু কদর সম্মান সব মমতার জন্য। এই কথাটা আমি বললেও সত্যি, না বললেও সত্যি। এটাই বাস্তব। তৃণমূলের গোষ্ঠীবাজ নেতানেত্রীরা এই সত্যটা যত তাড়াতাড়ি বোঝেন তত মঙ্গল—তাঁদের নিজেদের পক্ষে তো বটেই তাঁদের এলাকার মানুষজনের পক্ষেও। শুধু তাই নয়, তাঁদের ক্রিয়াকলাপে মমতার শত্রুরা যদি দুষ্কর্ম করার বাড়তি ইন্ধন পাচ্ছে বা পেয়েছে বলে প্রমাণ হয় তবে মানুষও তাঁদের কিন্তু রেয়াত করবে না। ভাঙড়ের গন্ডগোলের ক্ষেত্রে তেমন ইঙ্গিত অভিযোগ কিন্তু মিলছে। বিশেষ করে মমতা যখন জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রামের মানুষের আপত্তি থাকলে পাওয়ার গ্রিড অন্যত্র সরানো হবে তখন এত বড় করে গন্ডগোল পাকল কীভাবে! কী করে দু-দুটো মানুষের প্রাণ গেল! পুলিশ তো বলছে, তারা গুলি চালায়নি। তাহলে গুলি কে চালাল! অত শত লোকের মাঝে গুলি চলল লোক মরল কেউ দেখেনি? নেতারা খোঁজ করেছেন—গুলিটা চালাল কে? পরিকল্পনাটা কি পাওয়ার গ্রিড ঠেকানো, নাকি রাজ্যে একটা নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি?
সংশয় মেশানো এই প্রশ্নটা কিন্তু উঠছে। উঠছে সংগত কারণেই। উঠবে না কেন? রাজ্যে বিশ্ববাংলা শিল্প সম্মেলনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারী সরকারি প্রতিনিধিরা আসছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে প্রাণান্ত প্রয়াস চালাচ্ছেন, শিল্পোদ্যোগীদের বোঝাবার চেষ্টা করছেন, এই রাজ্যে বিনিয়োগের সুবিধা ও সুফল—ঠিক তখনই অশান্তি পাকাতে হল ভাঙড়ে! পাওয়ার গ্রিড কি গতকালের ব্যাপার? পরিকাঠামো তো সব তৈরি হয়ে গিয়েছে। কেবল টাওয়ার থেকে টাওয়ারে তার ফেলা বাকি। এতদিন কি ঘুমোচ্ছিলেন সব! ‘জনদরদ’ কি পঞ্জিকা দেখে উথলে উঠল মঙ্গলবার! যখন দেশ-বিদেশের অতিথিদের সামনে বাংলার মানমর্যাদা, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি এবং পশ্চিমবঙ্গের উজ্জ্বল শিল্প-পরিবেশের ছবিটা উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরার জন্য গোটা রাজ্যে শান্তির বাতাবরণ জরুরি ছিল ঠিক তখনই ভাঙড়ে হাঙ্গামার আগুন জ্বালতে হল! মানুষ মারতে হল! পশ্চিমবঙ্গের নাক কেটে মমতার যাত্রাভঙ্গ ঘটাবে—এমন ভাবছে কোন মূঢ়মতি! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও চিনলেন না! ওসব খুচরো ঝুটঝামেলা দিয়ে মমতাকে যে লক্ষ্যচ্যুত করা যায় না বরং লক্ষ্যপূরণে তাঁর জেদ ও জয়ের জন্য আগ্রাসনটাই বেড়ে ওঠে—জানেন না? রোজভ্যালিতে সিবিআই দিয়ে শায়েস্তা করতে গিয়ে দিল্লি কিন্তু বুঝেছে। তাদের এই রাজ্যের এক শীর্ষ নেতাকে লোক ঠকানোর অভিযোগে জেলে পোরার পর মনে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নতুন করে এই রাজ্য ও তার অভিভাবিকার মতিগতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তার ওপর শুক্রবার শিল্প সম্মেলনে এসে রাষ্ট্রপতির ঢালাও প্রশংসার পর তো কথাই নেই।
কিন্তু, কথায় আছে না, এক ধরনের লোক দেখে বা ঠেকে কিছুতেই শেখে না। সিপিএমের অবস্থা অনেকটা তেমন। নাহলে শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনের দিন ওইভাবে নাটক করতে যায়! পারে বটে সিপিএম! কী নাটক কী নাটক! সব যখন শেষ, রাষ্ট্রপতি রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী সমেত অতিথি অভ্যাগতরা প্রায় সকলেই যখন চলে গিয়েছেন তখন দলবল জুটিয়ে মিলনমেলার কাছে এসে আচমকা হইহল্লা ধ্বস্তাধ্বস্তি স্লোগান চিৎকার! যাকে বলে একেবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড! অপ্রস্তুত পুলিশ। অপ্রস্তুত পুলিশ সেই নাটকবাজি সামলাতে নাজেহাল। অন্যদিকে বাম বিক্ষোভের দাপটে পথ আটকে পড়ায় যানজটে নাকাল নিত্যযাত্রী পাবলিক। সব মিলিয়ে পরমা আইল্যান্ড মিলনমেলা প্রাঙ্গণ এলাকা কিছুক্ষণের জন্য হলেও মিনি কুরুক্ষেত্র। আর সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সিপিএমের প্রথম সারির কয়েকজন নেতানেত্রী সমেত শ’দেড়েক গ্রেপ্তার। সেই গ্রেপ্তারি নিয়ে আবার নাটকের ওপর নাটক—সুজন চক্রবর্তী মহম্মদ সেলিম কান্তি গাঙ্গুলির মতো বেশ কয়েকজন নেতা বায়না ধরলেন, পিআর বন্ডে জামিন নেবেন না। আদালতে যাবেন। তাই সই। তাতে তাঁদের শুক্রবার রাতের জন্য হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থায় খানিক চাপ-পরিশ্রম বাড়ল পুলিশের।
এবার যদি প্রশ্ন করি ভাঙড়ের ঘটনা নিয়ে সিপিএমের এই প্রতিবাদ নাটকের নিট ফলটা কী হল? রাজ্যের বাম বিমুখ মানুষ কি নতুন করে সিপিএমের মূল্যায়নে আগ্রহী হল? শিল্প সম্মেলনের আয়োজনে কি কিছুমাত্র বিঘ্ন ঘটল? এই আন্দোলন কি আগামী ভোটে সিপিএমকে একটু এগিয়ে দিল? অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক মুখ্যমন্ত্রী মমতা কি দেশ বিদেশের অতিথিদের সামনে একটু চাপে একটু অস্বস্তিতে পড়লেন? আমরা নিশ্চিত, অতি বড় মার্কসবাদীও এর কোনওটিতে ইতিবাচক উত্তর দিতে পারবেন না। কারণ, এসব যে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া সিপিএমের রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার একটা চেষ্টা মাত্র—তা একজন সাধারণ মানুষ যদি বুঝতে পারেন তবে পার্টির রাজনীতি সচেতন কর্মীসমর্থকরা বুঝবেন না—তাই কি হয়? আর সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পর সিপিএমের চরিত্র তো দেশ বিদেশের সকলেরই কম বেশি জানা। সুতরাং, শিল্প সম্মেলনকে তাক করে সিপিএমের বিক্ষোভ মমতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শেষপর্যন্ত ব্যুমেরাং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি—এটাও পার্টির লোকজন জানেন। কিন্তু, উপায়ও তো নেই। মমতার একচ্ছত্র সর্বব্যাপী প্রভাবের মধ্যে রাজনৈতিক অস্তিত্বটুকু রক্ষা করতে হলে এমন নাটক ছাড়া পথ কোথায়! তবে, ভাঙড়ই হোক কি বাম বিক্ষোভ—শিল্প সম্মেলনের মুখে অশান্তির পরিবেশ তৈরি তো করছে। অতিথি অভ্যাগতদের সামনে সেটা নিশ্চয়ই সুখকর দৃশ্য নয়। রাজ্যের সুনাম দুর্নামের চিন্তা না করে এইসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অশান্তি কি ঠিক? তাই বলছি, রাজ্যের বুকে নৈরাজ্য সৃষ্টির এইসব চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করুন মমতা। কারণ, তুচ্ছ রাজনৈতিক গোষ্ঠীবাজি কি নাটুকে ‘প্রতিবাদে’র চেয়ে রাজ্যের মানমর্যাদার স্থান অনেক ওপরে। তাই নয় কি? 




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta