রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

পাইয়ে দেওয়া
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যখন তিনি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অধ্যাপকদের বলছেন, ছোটরা রাগ কোরো না কেমন! বড়দের অবসরের বয়সটা ৬২ করে ঩দিই? সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি জুড়ে তুমুল হাততালি। তিনি বলছেন, ১০ বছর চাকরি হয়ে গেলে বেড়াতে যাওয়ার জন্য এলটিসি পাবেন দেশের মধ্যে এবং ২০ বছর হয়ে গেলে বিদেশে ভ্রমণ। তখন উদ্বেলিত উচ্চশিক্ষকরা দু’হাত তুলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এরপর স্বাস্থ্যসাথি প্রকল্পে আওতায় নিয়ে আসা, উচ্চশিক্ষার জন্য এক বছর ছুটি পাওয়ার ঘোষণাগুলির পরবর্তী ঝোড়ো হাততালি আর ইতিউতি হো হো আনন্দধ্বনি শুনে যে-কেউ চোখ বুঝে ভাবতেই পারতেন কলকাতার নেতাজি ইনডোর নয়, জায়গাটা বাসন্তী কিংবা ঝাড়গ্রামের কোনও ময়দান এবং মুখ্যমন্ত্রী বিনামূল্যে ট্রাক্টর বিলি করছেন অথবা এইমাত্র জঙ্গলমহল ফুটবল কাপের ঘোষণা করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যা঩য় বাঙালির সবথেকে বড় যে ক্ষতি করেছেন তা হল তিনি বেআব্রু করেছেন আমাদের। তিনি দিনের পর দিন ধরে প্রমাণ করে চলেছেন বাঙালি একটি অবক্ষয়ী জাতি এবং ওসব সংস্কৃতিমনস্কতা কিংবা আত্মসম্মান একটা মুখোশ ছাড়া কিছুই নয়। আমরা সকলে প্রতিটি স্তরের বাঙালিই স্রেফ উপঢৌকন পেতে ভালোবাসি। এবং, মমতার নিশ্চিত বিশ্বাস হল শিক্ষিত অশিক্ষিত গরিব বড়লোক সকলকেই খুশি করা যায় পাইয়ে দিয়ে। তাই মমতার কাছে হাঁসখালির যে ছেলেটি সাইকেল পেয়েছে কিংবা কাটোয়ার যে মেয়েটি কন্যাশ্রী পেয়েছে, তাদের সঙ্গে কলকাতার নামজাদা অভিজাত কলেজের রসায়ন শিক্ষকের কোনও ফারাক নেই। মমতা জানেন, কিছু পাইয়ে দিলেই সম্পূর্ণ সামাজিকভাবে বিপরীত মেরুর হলেও উভয়েই সমান মাপের খুশি হয়। সাইকেল আর কন্যাশ্রী পাওয়া ছেলেমেয়েরা হয়তো প্রকাশ্যে সেই আনন্দ ঘোষণা করবে, কিন্তু কলেজ শিক্ষকরা বাড়ি ফিরে হিসাবে বসবেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে ফারাকটা কতটা রয়ে গেল। কিন্তু, পেতে সকলেই চায়। পেলে সকলেই খুশি।
এই ফরমুলা মমতা আবিষ্কার করেছেন এমন নয়। জয়ললিতা আগেই করেছেন। আর এই ফরমুলা যে সুপারহিট তা গোটা ভারতেই প্রযোজ্য। আর্থিক সংস্কার করব, নোট বাতিল করে বিপ্লব আনব—এরকম লম্বা-চওড়া গালভরা সাহসী কথা বলার পরই নরেন্দ্র মোদিকে ৩১ ডিসেম্বর নতুন বছরের প্রাক্কালে কল্পতরুই সাজতে হয়েছে একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রকল্প ঘোষণা করে। সুতরাং বাঙালি আলাদা হবে কেন? আলাদা এই কারণেই যে বাঙালির মধ্যে সামাজিক স্পোর্টসের গো অ্যাজ ইউ লাইকে প্রগতিশীল সাজার প্রবণতা খুব বেশি। আসলে আমরা হিপোক্রিট। সেদিন যারা বিদেশ ভ্রমণের এলটিসি ঘোষণায় বাড়ি ফিরেছেন মিষ্টির প্যাকেট হাতে উৎফুল্ল মনে, তাঁরাই কিছুদিন আগে গরিব মানুষের বাড়িতে মৃত্যু হলে অন্ত্যেষ্টির জন্য সরকার ২ হাজার টাকা করে দেবে মমতার এই ঘোষণার পর বাঁকা হাসি হেসেছিলেন। মমতা-বিরোধী আলোচনায় কোনও সরকারি কর্মী থাকলে রাজ্যে কোনও শিল্প হল না কিংবা কর্মসংস্কৃতি গোল্লায় যাচ্ছে বলে তিনি যতটা না রাগ দেখান, তার থেকে বেশিবার তাঁর মনে পড়ে মমতা খুব খারাপ, কারণ ডিএ দেননি।
তার মানে কি এটা অন্যায়? মোটেই নয়। প্রাপ্য ডিএ মমতা সরকার দেবেন না কেন? অবশ্যই ক্ষোভ থাকবে। স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হল, সরকারি কর্মীদের সিংহভাগ প্রথমেই অখুশি প্রকট করেন ডিএ অ্যাজেন্ডায়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পাওয়া না-পাওয়ায়। ডিএ অবশ্যই সরকারের দেওয়া কর্তব্য। আর মমতা যদি সেটা টের পেয়ে যান যে তাঁর প্রশাসন পরিচালনা বা অন্য ব্যর্থতা নিয়ে সরকারি কর্মীদের মাথাব্যথা নেই। ডিএ নিয়ে আছে। তাই তিনি সরকারি কর্মীদের পালস বুঝে আগামীদিনেও মাঝেমধ্যে ডিএ ঘোষণা আর হরেকরকম উপহার ঘোষণা করে সন্তুষ্ট করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। আজ চাষি। কাল অধ্যাপক। আজ শ্রমিক। কাল তথ্যপ্রযুক্তি। আজ স্বনিযুক্তি। কাল সাহিত্য কমিটি। আজ মৎস্য ঋণমেলা। কাল লিটল ম্যাগাজিন মেলা। আজ জঙ্গলমহল উৎসব। কাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। মমতা জানেন, এই বাংলায় বিলিবণ্টন এক্সপ্রেস আর হুজুগ প্যাসেঞ্জারের প্রতিটি কামরায় ভিড় হবেই।
যাঁদের আমরা রুপালি পর্দার নক্ষত্র ভাবতাম এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্দনা করতেন, তাঁদের মমতা প্রমাণ করে দিয়েছেন মাটির মানুষ। লোভী মানুষ। চাটুকার মানুষ। স্টেজে তুলে মমতা তাঁদের গাইতে বলেন। নাচতে বলেন। স্লোগান দিতে বলেন। তাঁরা গা ঘেঁষাঘেঁষি করে মমতার সঙ্গে টিভি ক্যামেরার একই ফ্রেমে থাকার জন্য গোপনে একে অন্যকে কনুই দিয়ে গুঁতোও দিয়ে থাকেন। ডাক্তার কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক বলে কোনও পৃথক জনগোষ্ঠী আর অবশিষ্ট নেই বাঙালির মধ্যে। মমতা প্রমাণ করে দিয়েছেন সকলকেই কেনা যায়। রাজনৈতিক বিশ্বাস আর আদর্শ বলে কিছু হয় না। নতুন যুগের ধ্রুবপদ হল ব্যক্তিগত পাওয়া। যে-কোনও হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি সামাজিক আলোচনায় সংখ্যালঘুদের উপর ক্ষিপ্ত হলেও যেইমাত্র তাঁকে বলা হয় তাঁর নিজের প্রমোশন বা ছেলেমেয়ের চাকরির ব্যাপারে কোনও উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছে দরবার করতে হবে অথবা একটু তোষামোদ করে সেই ব্যক্তিকে খুশি করলেই কার্যসিদ্ধি হবে, তাহলে সেই উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যদি সংখ্যালঘুও হন তাহলেও সেই হিন্দুত্ববাদী কিন্তু পিছু হটবেন না। কারণ, তখন সামনে চলে আসবে ব্যক্তিগত স্বার্থ। আমি যাঁর আন্ডারে পিএইচডি করি সেই প্রফেসর যদি সংখ্যালঘু হন, তাহলে আমি তাঁকে সারাক্ষণ তুষ্ট করে চলব না? অথচ বন্ধুমহলে হয়তো আমি সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেও কিন্তু ঠিক তাই। তাঁরাও সম্প্রদায়গত বিভেদ কিংবা উগ্র মনোভাবকে বাড়িতে রেখে আসবেন যখন ব্যক্তিগত কোনও কাজ চরিতার্থ করতে হবে। তখন দেখা যাবে তিনিও হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তির দ্বারস্থ হয়ে ভালো ভালো কথা বলছেন। এটাই নিয়ম।
বিখ্যাত পত্রিকায় অন্যের গল্প কবিতা ছাপা হলে আমরা সেই পত্রিকার গালমন্দ করি। সেই পরিচিত লেখক কীভাবে তোষামোদের মাধ্যমে এসব নিম্নশ্রেণির লেখা ছাপিয়ে নিচ্ছেন সেই সমালোচনা করি। কিন্তু, যেই সেই পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ পেল তখনই সেটি উন্নত মানের পত্রিকা হয়ে গেল আমার কাছে। রিয়ালিটি শো’তে অডিশনে আমি চান্স না-পেলেই সেটি হয়ে যাবে স্বজনপোষণ আর ঘুষের রাজ্য। পরের বছর আমি যেই চান্স পাব তখন সেই শো সবথেকে ভালো হয়ে যাবে। আমার মনের মতো কথা সোমবার কোনও পত্রিকায় ছাপা হলে সেটি ভালো পত্রিকা। আমার বিরুদ্ধমতের কথা বুধবার সেই পত্রিকায় ছাপা হলে সেটি খারাপ পত্রিকা।
মমতা প্রমাণ করেছেন, বাঙালির আর কোনও নেতৃত্বপ্রদানের ক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক মেধা নেই। তাই তিনি এবং তাঁর সরকার একের পর এক ইস্যু বিরোধীদের হাতে তুলে দিলেও একটিও দল নেই যারা তাঁকে সামান্যতম বিপাকে ফেলতে পারছে। ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রিসাইডিং অফিসারকে যেভাবে ধমকেছেন কিংবা রূপা গাঙ্গুলি হাওড়ায় যে-ভঙ্গিতে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেসব পেটেন্ট কার? কে ওইভাবে আগ্রাসীভাবে বরাবর রাজনীতি করে এসেছেন? মমতা। ওরকম আগুনে দৃষ্টি দিয়ে প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি বাঙালি দেখে এসেছে মমতার মধ্যে দিয়েই। ওসব নতুন কিছু নয়।
মমতাকে বিপাকে ফেলার জন্য এখন কোন ইস্যু সবথেকে হাতে গরম? ভাঙড়। জমি অধিগ্রহণ। চাষিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। পুলিশের অত্যাচার। এসব আসলে কার ইস্যু ছিল? এইসব অ্যাজেন্ডাকেই হাতিয়ার করলে সরকারকে প্রবল বিপদে ফেলা যায় এই রাজনৈতিক তীক্ষ্ণতা প্রথম কে দেখিয়ে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন? মমতা। ভাঙড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুতরাং বিরোধীরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন মমতাকে আক্রমণ করতে হলে মমতার দেখানো পথই ঩নিতে হবে।
মমতাই মডেল। সেটা কি কখনও সম্ভব? মমতা তো ওই পথ চেনেন? সুতরাং প্রতিরোধ কীভাবে করতে হয় তাও জানেন। বিরোধীরা যদি মমতাকে খতম করতে মমতাকেই এভাবে নকল করেন তাহলে তাঁদের রাজনৈতিক মেধা, নেতৃত্বগুণ, উদ্ভাবনী শক্তি এবং মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন কোনও পথ উদ্ভাবিত করে মমতাকে আক্রমণ করে বিপদে ফেলতে হবে যে-পথটি তিনি চেনেন না। যে-পথে তিনিও কখনও হাঁটেননি। সেটাই বরং তাঁর কাছে যথেষ্ট অজানা আর অস্বস্তিকর হবে। বাঙালি নেতানেত্রীদের দেখে ওই হতাশাই প্রকট হচ্ছে যে তাঁরা নতুন কোনও রাজনৈতিক লাইনের ফরমুলা আবিষ্কারই করতে পারছেন না। তাই মমতা কিন্তু বড়সড় বিপদে পড়ছেন না। জিতে যাচ্ছেন। কারণ, মানুষের মন বোঝার প্রতিযোগিতায় মমতা বারংবার বিরোধীদের হারিয়ে দিচ্ছেন। অথবা বলা ভালো ভোট যন্ত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে না মমতা-বিরোধী অস্ত্রগুলি।
বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্লচন্দ্র সেনদের প্রতিপক্ষ হিসাবে ছিলেন জ্যোতি বসু। সিদ্ধার্থশংকর রায় পরাজিত হলে জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন। জ্যোতি বসু পরাজিত হলে প্রিয়-সুব্রত জুটির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পরবর্তী কালে মমতা সেই স্থান করে নিয়েছেন। অর্থাৎ স্বাধীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শাসক ও বিরোধী দলের সমর্থক তথা ভোটারদের কাছেও স্পষ্ট ছিল যে শাসকের নেতা কে এবং বিকল্প নেতানেত্রীই-বা কে? কিন্তু, সেই রাজনৈতিক ম্যাচিওরিটি থেকে বাংলার অধঃপাত হয়েছে।
মমতার ৬ বছরে দেখা যাচ্ছে, বিরোধীদের কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নেই। মমতার মতো হাইভোল্টেজ নেত্রীকে টক্কর দেওয়ার মতো বিকল্প না দিতে পারলে জনতার কাছে কোনও সাধারণ মানের নেতানেত্রী বিকল্প হিসাবে গ্রহণীয় হবে না। অধীর চৌধুরি, সূর্যকান্ত মিশ্র, দিলীপ ঘোষরা অত্যন্ত চেনা ছকে রাজনীতি করেন। তাঁদের কোনও আচরণ, কোনও অবস্থান, কোনও সিদ্ধান্তেই আম জনতা চমকিত হন না। ছকের বাইরে না-গেলে চোখে পড়া যায় না। তার জন্য দরকার তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক রিডিং এবং মানুষের পালস বোঝার ক্ষমতা। সেরকম কোনও লক্ষণ এঁদের রাজনীতিতে টের পাওয়া যায় না। মমতা পাইয়ে দিচ্ছেন বাঙালিকে। বিজেপি রাজ্যে প্রধান বিরোধী হতে চাইছে এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। তাও সেই সুযোগটি নিতে পারছে না। বিজেপি কেন্দ্রে দরবার করে তাবৎ রেলপ্রকল্পগুলি নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামছে না কেন? মমতার ঘোষিত হলেও, রাজ্যে রেলের কাজগুলি দ্রুততার সঙ্গে সমাপ্ত করলেন মোদিই—এই বার্তা দেওয়া যেত ২০১৯ সালে। বিজেপি বরং মমতার হাতেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছে যে, মমতার দল কেন্দ্রে না-থাকলে রাজ্যের প্রকল্প আটকেই থাকবে। সিপিএম এবং কংগ্রেস ক্ষমতাতেই নেই। তাই তাদের পক্ষে মমতার পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মমতার পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির পালটা হিসাবে একমাত্র বিজেপিই পারে মোদিকে দিয়ে এরা঩঩জ্যের জন্য প্রচুর জনমোহিনী ঘোষণা করিয়ে দিতে।
২০০৯ সালে রেলমন্ত্রী হয়ে আসার পরই মমতা রাজ্যের জন্য অজস্র প্রকল্প, অসংখ্য ট্রেন, একঝাঁক দুরন্ত এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস, রেল ইউনিট করে বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যে তিনি ক্ষমতায় এলে এরকমই কল্পতরু হবেন। রাজ্যে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সত্যিই অকাতরে ঘোষণা করে চলেছেন নানাবিধ উপহার। কিন্তু, বিজেপি তা করতে ব্যর্থ। আড়াই বছরে এরাজ্যের জন্য বিশেষ কিছুই উপহার দেননি নরেন্দ্র মোদি। এখানেই রহস্য। এই কৌশলটি নরেন্দ্র মোদি জানেন না তা হতে পারে না। তাহলে কেন তিনি কিছুই দিচ্ছেন না রাজ্যের জন্য? উচিত ছিল, রেলের তাবৎ প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করা এবং আরও উপহার দেওয়া। সেসব কিছু হচ্ছে না। বরং সব প্রকল্প বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। কেউ জানে না মেট্রো কবে হবে। সুতরাং এতে মমতার লাভ দ্বিগুণ। একদিকে তিনি নিজে নিত্যদিন কিছু না কিছু উপহার ঘোষণা করেই যাবেন। আবার বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার যে বঞ্চনা করছে সেই প্রচারও তুঙ্গে নিয়ে যাবেন।
বিজেপি রাজ্য ইউনিটকে বুঝতে হবে, মমতাকে আক্রমণ করার সব ফরমুলাই ব্যর্থ হচ্ছে। মমতাকে চিন্তায় ফেলতে হলে একমাত্র উপায় হল কেন্দ্র থেকে লাগাতার এরাজ্যের জন্য নানাবিধ সুসংবাদ, ঘোষণা, আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আসতে হবে। ওসব আর্থিক সংস্কার টংস্কার নয়। পাবলিক চায় ডাইরেক্ট সুযোগ সুবিধা, আর্থিক সহায়তা, ছাড়, অনুদান ইত্যাদি। মমতা সেটাই করছেন। আর জিতছেন। কারণ, এখন ভোটারের মনের কথা হল—কার থেকে কী পাচ্ছি। ওই লাগামছাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই দুনিয়াকে অবাক করে ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরমুলা একটাই। পাইয়ে দাও। আম্মা দিয়েছিলেন। দেবীত্বে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মমতা দিচ্ছেন। ভোটও পাচ্ছেন। বন্দনাও পাচ্ছেন। কারণ, একটা জিনিসি স্পষ্ট। বাঙালি আর নিজে থেকে কিছু করতে চায় না। পেতে ভালোবাসে।   




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta