রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

শাহরুখের রইস

এইমুহূর্তে সিনেমা প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম- রইস খান! বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। রাহুল ঢোলাকিয়ার ছবির নাম ভূমিকাতেই রয়েছেন কিং খান। টিজার থেকে ট্রেলার শাহরুখ ফ্যানেরা মন্ত্রমুগ্ধ। মুক্তির দিন হোক বা ট্রেলার লঞ্চের দিন, প্রত্যেকবারই শেষমুহূর্তে কিছু না কিছু পরিবর্তন যেন বাধা রয়েছে এই ছবির ভাগ্যে। সলমন খান আর শাহরুখ খানের বৈরিতার সম্পর্কে যে ইতি পড়েছে তা অনেকদিন ধরেই বলিউডে চর্চার বিষয়। তারই প্রমাণ ‘সুলতান’ ছবির মুক্তির দিন থেকে ‘রইস’কে সরিয়ে নেওয়া। তবে সলমন-শাহরুখ দ্বৈরথ এড়ালেও প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে কিং খানের সঙ্গে লড়াইয়ে চলে এলেন আর এক হেভিওয়েট হৃতিক রোশন। হৃতিকের হোম প্রোডাকসন্সের ছবি ‘কাবিল’ যে ওইদিনই মুক্তি পাচ্ছে। সেখানেও শেষমুহূর্তে পরিবর্তন। ২৬ জানুয়ারির বদলে দুটো ছবিই শেষপর্যন্ত মুক্তি পাচ্ছে ২৫ জানুয়ারি। সেয়ানে সেয়ানে টক্করকে বাদ দিয়ে আসা যাক ‘রইস’ প্রসঙ্গে।
ইউটিউবে ট্রেলার বা টিজার দর্শন যদি আভাস হিসেবে ধরা হয়, তাহলে কিং খানের ভক্তদের ছবি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। বিভিন্ন ট্রেড অ্যানালিস্টদের পূর্বাভাসও বলছে হেসেখেলে আরেকটি ব্লকবাস্টার হতে যাচ্ছে শাহরুখের এই ছবি। তবে শুধু বক্স অফিসে বাজিমাত নয়, শাহরুখ যে ইদানীং সমালোচকদের মন জয় করতেও মন দিচ্ছেন তা তাঁর পদক্ষেপেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ বা ‘ হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বক্স অফিসে কামাল করলেও নিখাদ শাহরুখ ভক্তদের মনেও একটা আশঙ্কা তৈরি করে দিয়েছিল। তাদের প্রিয় নায়কের দিন কি ধীরে ধীরে শেষের পথে? বুদ্ধিমান শাহরুখ সম্ভবত সেটি বুঝেই ‘স্টান্স’ বদলে ফেলেছেন। শুরু হয়েছিল ‘ফ্যান’ ছবিটি দিয়ে। সেই ছবিতে তাঁর অভিনয়ে অনেকেই প্রথমদিকের শাহরুখের ছোঁয়া পেয়েছেন। প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে ছবি করার ট্রেন্ড শাহরুখের মজ্জাগত। ‘ফ্যান’ তাঁকে নিয়ে তৈরি আশঙ্কায় যদি সাময়িক বিরতি দিয়ে থাকে, তাহলে বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে গৌরী শিণ্ডের ‘ডিয়ার জিন্দেগি’। সেই ধারাতেই যেন নতুন সংযোজন হতে চলেছে রাহুল ঢোলাকিয়ার ‘রইস’।
‘বাজিগর’, ‘ডর’, ‘আনজাম’ থেকে শুরু করে ‘ডন’ বা ‘ডন টু’, ফিল্মি কেরিয়ারে অ্যান্টিহিরো বা খলনায়কের চরিত্র সবসময় বাজি‌ ঩জিতিয়েছে শাহরুখকে। ব্যাকব্রাশ চুল, গালভরতি দাড়ি আর স্টিল ফ্রেমের চশমা..রইসের লুক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ঝড় উঠেছে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৮০ সালের গুজরাত। বেয়াইনি মদের ব্যাবসার বেতাজ বাদশা রইস খান। আর এই ব্যাবসাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন পুলিশ ইন্সপেক্টর জয়দীপ মজমুদার। এই চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। কুখ্যাত সমাজবিরোধী আবদুল লতিফের জীবনের ছায়ায় তৈরি রইস এমনটাই খবর, যদিও নির্মাতারা তা একেবারেই মানতে নারাজ। লতিফের জীবনকাহিনি আরও ইন্টারেস্টিং কারণ গুজরাতে কংগ্রেস যুগের অবসান হয়ে বিজেপি’র উত্থানের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমেদাবাদের গরিব মুসলিম পরিবারের ছেলে লতিফ স্কুলের গণ্ডি পার করেননি। বাবার তামাকজাত দ্রব্যের দোকানে বসতে বসতেই বেআইনি মদের কারবারি আল্লারাখার দলে যোগ দেন লতিফ। সেখানে হাত পাকিয়ে নিজেই পরে একটি দল গঠন করেন। বেয়াইনি ব্যাবসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গেও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে তাঁর। পরে দাউদ ইব্রাহিমের দলের সঙ্গে গ্যাং ওয়ারেও লতিফের নাম জড়ায়। তৎকালীন গুজরাত যুব কংগ্রেসের সভাপতি হাসন লালা ছিলেন লতিফের বাল্যবন্ধু। জেলে বন্দি থাকাকালীন গুজরাতের পাঁচটি পৌরভোটে জয়ী হন লতিফ। লতিফের দলে সকলেই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের। আর গুজরাতের হিন্দুরা তাঁর হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছিল। নির্বাচনী ইস্তাহরে লতিফের গ্রেপ্তারের ওপরই জোর দিয়েছিল বিজেপি। সেই আশ্বাসে ভর করে ক্ষমতায় এসেই লতিফকে সবরমতী জেলে ভরে গুজরাত সরকার। ২ বছর পর পুলিশ এনকাউন্টারে লতিফ মারা যান। লতিফের ভয়াবহতার অবসানই গুজরাতে বিজেপি’র জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে ধরা হয়। সেই গ্যাংস্টারের কাহিনিই এবার পরদায় নিয়ে আসছেন রাহুল।
শাহরুখ খানের সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করছেন পাক অভিনেত্রী মাহিরা খান। ছবির অন্যতম প্রযোজক ফারহান আখতার নিখাদ পাকিস্তানি লুকস চাওয়ায় মাহিরার এন্ট্রি হয়। সাম্প্রতিক ফাওয়াদ খান বিতর্কের পর মাহিরাকে নিয়েও গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু শাহরুখ স্বয়ং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সুপ্রিমো রাজ থ্যাকারের সঙ্গে দেখা করে কথা দেন মাহিরা ছবির প্রমোশনে ভারতে আসবেন না। ছবিতে মদের ব্যাবসা দেখানোকে কেন্দ্র করেও কম বিতর্ক হয়নি। অবশ্য মুম্বইয়ের সংবাদিক সম্মেলনে নির্মাতাদের সঙ্গে শাহরুখ স্বয়ং ঘোষণা করেছিলেন এই ছবিতে কোনওভাবেই মদ্যপানকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। বরং অসামাজিক কুকর্ম একজন মানুষের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মেহবুব স্টুডিওতে একটি বিশেষ সেট তৈরি করে সানি লিওনকে নিয়ে একটি আইটেম ডান্স শ্যুট করা হয়েছে। ‘কুরবানি’ ছবিতে ফিরোজ খান-জিনাত আমনের ওপর চিত্রায়িত ‘লায়লা ও লায়লা’ গানটি নতুন করে শ্যুট করেছেন সানি। ‘জালিমা’ এবং ‘উড়ি উড়ি যায়’ গানদুটোও হিট। ইউটিউবে ছোট ছোট সংলাপ টিজার প্রকাশের মাধ্যমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। বাড়ছে ‘ভিউ’, চড়ছে পারদ। বোঝাই যাচ্ছে ছবি হিট করানোর সবরকম মশালাই প্রস্তুত। এখন শুধু ময়দানে নামার অপেক্ষা।

সন্দীপ রায়চৌধুরি 

ত্রাস বুনন ছবির শ্যুটিং শেষ

অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত এবার পরিচালনায় এলেন। গ্রামীন তাঁতিদের নিস্তরঙ্গ দৈনন্দিন জীবনেও অনেক জটিল ঘূর্ণি থাকে যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তেমনই এক আপাতসাধারণ কাহিনি নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন বাংলা ছবি ‘ত্রাস বুনন’।
পরিচালক জানালেন,‘প্রায় ত্রিশ বছর আগে রচিত তারু মুখোপাধ্যায়ের একটি একাঙ্ক নাটকের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে ‘ত্রাস বুনন’-এর চিত্রনাট্য। সময় হয়ত বদলেছে কিন্তু কিছুমাত্র বদলায়নি প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাঁতিদের জীবন। জীবিকার জটিল আবর্তে আবর্তিত হয় তাদের স্বপ্ন, শিল্পীসত্তা। আমি সেটাই তুলে আনছি এই ছবিতে’। কী থাকছে ছবিতে? দেবপ্রতিম জানালেন,‘এই ছবির প্রধান চরিত্র গৌরহরি (ক্ষীতিশ সরকার) নামের এক তাঁতি। তিনি শত চাপ, প্রলোভনেও নিজের শিল্পীসত্তাকে বিসর্জন দিতে পারেন না। নাম লেখান না যতনপুর তন্তুবায় সমিতিতে। সনাতন মহাজন (শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়) শত জাল বুনেও গৌরহরিকে ফাঁদে ফেলতে পারে না। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন শিল্পী কোথাও বাঁধা পড়লে শিল্পীর মনে তাঁতের নক্সা ধরা দিতে চায় না। তাই অভাব সইতে রাজি থাকলেও প্রভাব সইতে তিনি রাজি নন’।
কিছুদিন আগেই মানস গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্যামেরায় হুগলির রসুলপুরের তাঁতিদের গ্রামই হয়ে উঠেছিল ছবিটির যতনপুর। যে রসুলপুরেই এক সময় শ্যুটিং হয়েছিল উত্তমকুমার অভিনীত ধন্যি মেয়ের মত সুপারহিট ছবির। অমিত গঙ্গোপাধ্যায় ও রিঙ্কু সরকার প্রযোজিত ত্রাস বুনন-এর অন্য অভিনেতারা হলেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া হালদার, রূপাঞ্জনা মিত্র, সায়ন্তনী গুহ ঠাকুরতা, মনোজ দাস,সমীর চন্দ্র,বাপি দাস, দিগন্ত সাহা প্রমুখ। প্রসেনের সংগীত ভাবনায় দীপাংশু আচার্য ও দেবপ্রতিম দাশগুপ্তের কথায় গানগুলি গেয়েছেন লোপামুদ্রা মিত্র ও অনন্যা। টিভিওয়ালা মিডিয়া প্রযোজিত ছবিটির এডিটিং চলছে।

রাজীব চক্রবর্তী  

চার ছবি এক প্রযোজক

অপর্ণা সেনের ‘আরশিনগর’ খ্যাত ঋত্বিকাকে নায়িকা করে ‘গদ্দার’ ছবিটি তৈরি করছেন পরিচালক নেহাল দত্ত। ইন্দো-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হবে ছবিটি। নায়ক বাংলাদেশের শ্রাভান খান। ছবিটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে রজতাভ দত্ত এবং খরাজ মুখোপাধ্যায়কে। ছবিটির কাহিনি-চিত্রনাট্য-সংলাপ নেহাল দত্তর। প্রযোজক আশিসকুমার দে। ‘গদ্দার’এর পাশাপাশি আরও তিনটি ছবিও প্রযোজনা করছেন তিনি। ছবিগুলি হল রাজেশ খানের পরিচালনায় ‘টলিউড ড্রিমস’, শীর্ষেন্দু পুততুণ্ড পরিচালিত ‘ইনকিলাব’ এবং সুশান্ত মণ্ডল- বিষ্ণু মাইতি পরিচালিত ‘শেষবেলা’। বেশকিছু নতুন মুখের পাশাপাশি ছবিগুলিতে দেখা যাবে অনিবার্ণ ভট্টাচার্য,লিলি চক্রবর্তী,সুব্রত গুহ রায়কে।

অজয় মুখোপাধ্যায়          
ছবি : ভাস্কর মুখোপাধ্যায়  




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta