রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

এখনই বিদেশি ছবি করতে চাই না: কঙ্গনা

বিতর্ক তাঁর পিছু না ছাড়লেও নিজের কাজের সঙ্গে কঙ্গনা রানাওয়াত আপোস করেননি। গিফটেড অভিনেত্রীর অভিনয়ই হোক বা তাঁর মৌলিক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, কঙ্গনা প্রায়শই হেডলাইনে। তিনবার জাতীয় পুরস্কার জয়ী কঙ্গনা নিজের চরিত্র বা লুকস নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন সমানভাবে। ‘গ্যাংস্টার’-এর আধ পাগল মেয়েটা,‘ফ্যাশন’-এর হাই প্রোফাইল মডেল বা ‘কুইন’ এর স্বাধীনচেতা রানি মেহরা- তিনি বলিউডে নিজের মতো করে জায়গা বানিয়েছেন। গত বছরটা খুব একটা ভালো না গেলেও আপাতত সমস্যাগুলোকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে ফেলতে পেরেছেন কঙ্গনা। আজ ‘রেঙ্গুন’ মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি জমে থাকা বহু প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
 কঙ্গনা সাম্প্রতিক অতীতে আপনার সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না...
 কেরিয়ারের শুরু থেকেই আমার কেরিয়ারে চড়াই-উতরাই এসেছে। তা বলে আমি কিন্তু কখনও ভারসাম্য হারাইনি! আমি জানি, আমি এগিয়ে যাব এবং আমার কাজ করে যাব। হ্যাঁ, অনেক কাদা ছোড়াছুঁড়িও হয়েছে। কিন্তু কী আর করা যাবে। আপনার ‘এক্স’ তো সবসময়ে আপনার ব্যাপারে গুজবই রটাবে! আমি এটা জানি। তাই আমার কিছু যায় আসে না।
 হঠাৎ ‘রেঙ্গুন’ এর মতো ছবি সাইন করলেন কেন?
 কেন করব না? অসাধারণ চিত্রনাট্য। একজন অভিনেত্রী কেরিয়ারের এই সময়ে এইরকম একটা চিত্রনাট্য পাওয়ার জন্য শুধু স্বপ্ন দেখে। বিশাল আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। ছবিটা খুব ভালোভাবে বানানো হয়েছে। তাছাড়া সইফ(আলি খান) এবং শাহিদ(কাপুর) দু্’জনেই অসাধারণ অভিনেতা, দারুণ কাজ করেছেন।
 ছবিটা চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বানানো হয়েছে। ছবিতে হিটলারের প্রসঙ্গও রয়েছে...
 সেটা তেমন কিছু সিরিয়াস ব্যাপার নয়। ছবিতে এই অংশটা একটা রূপকের আকারে দেখানো হয়েছে। ফলে দর্শক মজা পাবেন। সবথেকে বড় কথা এটা একটা প্রেমের গল্প।
এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার সাফল্য নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট?
 দেখুন কেউ কখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারে না। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। আমি সব সময়েই একটু আলাদা কিন্তু ভালো কাজ করতে চাই। আমি হঠাৎ করে এখন সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে বলতে পারব না যে, যা চেয়েছিলাম পেয়ে গিয়েছি! তিনটে জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও আমার জীবনে এখনও আরও অনেক কিছু পাওয়া বাকি আছে। প্রত্যেকটা মুহূর্তে আমার মনে হয় আগের থেকে আরও ভালো করতে হবে।
 এই প্রথম আপনি কোনও পিরিয়ড ছবিতে কাজ করছেন। বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গেও প্রথম ছবি। অভিজ্ঞতা কীরকম?
 বলতে পারেন জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। চল্লিশের দশকের একটা প্রেম কাহিনি। বিশাল প্রচুর গবেষণা করে ছবিটা বানিয়েছেন। ছবির সেটের শহরটাও প্রচণ্ড খেটে তৈরি করা হয়েছে।
 বুঝলাম। কিন্তু এই ছবির জন্য আপনি নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন?
 প্রথমে ছবিতে আমার লুক, হেয়ার স্টাইল, পোশাক, মেকআপ নিয়ে বিশালের সঙ্গে প্রচুর আলোচনা করেছিলাম। সেই সময়ের পৃথিবী এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আমাকে জানতে হয়েছে। তখন আলাদা পরিবেশ। দেশ চালাচ্ছে বিদেশিরা। এই জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হচ্ছিল। সেই সময়ের নায়িকারা কীভাবে সংলাপ বলতেন সেটাও খেয়াল রাখতে হয়েছে। তাঁদের অভিনয় সাজসজ্জা সবই ছিল ‘লাউড’। তাই আমাকে বেশকিছু জিনিস মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলতে হয়েছিল। সেই সময়ের বেশকিছু ছবি এবং নায়িকাদের অভিনয় দেখতে হয়েছে। ছবির নাম জিজ্ঞাসা করবেন না প্লিজ। বলা নিষেধ!(হাসি)। তবে জানিয়ে রাখি, এই ছবিটার জন্য কিন্তু আমাকে ঘোড়ায় চড়াও শিখতে হয়েছে।
 আপনাকে তো বেশ কিছু স্টান্টও করতে হয়েছে।
 হ্যাঁ। আসলে সেই সময়ের স্টান্ট অ্যাকট্রেসরা খুব জনপ্রিয় ছিল। তাই আমাকেও স্টান্টের জন্য ঘোড়া চালানো শিখতে হয়েছিল। সত্যি বলছি, সবটা কিন্তু আমার করা নয়। কয়েকটা অংশ আমার করা। আবার বলি এটা লাভ স্টোরি, অ্যাকশন ফিল্ম নয়।
 শুরু থেকেই আপনি জোরালো নারীকেন্দ্রিক চরিত্রে অভিনয় করছেন। এখন বলিউডে নারীকেন্দ্রিক ছবিও অনেক বেড়েছে। আপনি কোনও মোড় আনতে চান?
 বিদ্যা বালনও কিন্তু বেশকিছু নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি ‘দঙ্গল’ও কিন্তু মেয়েদের কথাই বলেছে। একজন বা দুজন কিন্তু বাজারের ট্রেন্ড বদলাতে পারবে না। এই ধরনের ছবির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য দর্শকদের বদলাতে হবে। আজকের তুলনায় চল্লিশের দশকে কিন্তু অনেক বেশি নারীকেন্দ্রিক ছবি হত। দেখানো হত মহিলারা একা দশজনকে মারছে। সেই সময়ের ছবিতে মহিলারা ছিলেন সুপারউইমেন। দুঃখের বিষয় আশির দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের টাকা বলিউডে ঢুকতে শুরু করল এবং তখন থেকেই মহিলাদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানো শুরু হয়! এখন কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই পাল্টে গিয়েছে।
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার চিন্তাভাবনা কীরকম?
 সবার আগে যে চরিত্র করব তার মনস্তত্ত্ব বোঝাটা আমার কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রের লুক এবং তার সংলাপের ভাষা বুঝতে সময় প্রয়োজন। চরিত্রের খাতিরে আমি প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পারি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমির স্যার সব থেকে বড় উদাহরণ। প্রয়োজন হলে শারীরিক দিক থেকে আমি একটা মাত্রা পর্যন্ত পাল্টাতে পারি। কিন্তু ‘দঙ্গল’ এর জন্য আমির স্যারকে কুর্ণিশ। কিন্তু এটাও ঠিক যে প্রত্যেক অভিনেতার একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
 আপনার অনুপ্রেরণা কারা?
 এইভাবে বলা মুশকিল। অনেককিছুই আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমি স্বামী বিবেকানন্দকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।
 এই প্রজন্মের একাংশের কাছে আপনিও তো রোল মডেল।
 আমি বিশ্বাস করি, আজকের প্রজন্মের সামনে আর কোনও বড় রোল মডেল নেই! আমি সতেরো বছর বয়স থেকে স্বামীজির আদর্শকে অনুসরণ করে শিক্ষিত হয়ে উঠেছি। আজকে বেশিরভাগ গুরুজিরা তো তাঁর শিক্ষাকেই অনুসরণ করছেন। দেশকে ভালোবাসা এবং তরুণদের মধ্যে মনোবল বৃদ্ধিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। আজকে আমাদের মধ্যে আর ততটা দেশপ্রেম নেই। দেশের মধ্যেই দেশের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়! বিদেশে দেখুন, জনগণ তাঁদের দেশকে কতটা ভালোবাসেন। এই প্রজন্ম তো ওঁদের অনুকরণ করতে পারে।
 দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারা এখন হলিউডে পা রাখলেন। বিদেশি ছবিতে কাজ করবেন না?
(জোর গলায়) আমার মনে হয় আমাদের দেশের ছবি খুবই ভালো। আমাদের ছবিকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়াতে আমি বিশ্বাস করি। আপাতত দেশ ছেড়ে বাইরে গিয়ে ছবি করতে চাই না।

সাক্ষাৎকার                 
মুম্বই থেকে শামা ভগত  

রানিং শাদি

নব্বইয়ের দশকে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করা ছিল সমাজের পরিচিত ‘সমস্যা’। এমনকি বলিউডের ছবিতেও এক সময়ে নায়ক-নায়িকার প্রেমের গল্পের পাঁচফোড়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এই ‘ভাগকে শাদি’। আজকে বিশ্বায়নের হাত ধরে বিয়ের কনসেপ্ট অনেক বদলে গিয়েছে। রাম ভারোসে(অমিত সাধ) এবং তার বন্ধু সাইবারজিৎ(আর্শ বাজওয়া) বাড়ির অমতে বিয়ে করতে ইচ্ছুক ছেলেমেয়েদের জন্য ‘রানিং শাদি’ ওয়েবসাইট খুলে বসে। এই কাজে দু’জনকেই সাহায্য করে রামের বন্ধু ওরফে প্রেমিকা নিম্মি (তাপসী পান্নু)। বাড়তে থাকে গ্রাহক, হাসতে থাকেন দর্শক। সাফল্যের সঙ্গে একের পর এক কেস মিটিয়ে পঞ্চাশতম কেসের আসামি রাম নিজেই। নিম্মি যে রামকে বিয়ে করতেই বাড়ি থেকে পালিয়েছে! অতএব বাড়ির লোকের তাড়া খেয়ে অমৃতসর থেকে ডালহৌসি হয়ে পাটনা পর্যন্ত তিনজনের এই ইঁদুর-বেড়াল দৌড়কে কেন্দ্র করেই ছবির দ্বিতীয়ার্ধ।
‘পিংক’ আগে মুক্তি পেলেও ‘রানিং শাদি’ তাপসীর প্রথম ছবি। খামখেয়ালি একরোখা নিম্মির চরিত্রে তাঁর অভিনয় বেশ ভালো। বিপরীতে অমিত সাধের মার্জিত অভিনয় দু’জনের কেমিস্ট্রির সমতা বজায় রেখেছে। অহেতুক ছবির দৈর্ঘ্য না বাড়ায় ছবির গতি ব্যাহত হয়নি। তবে সমস্যা ছবির শেষটা। পরিচালক পক্ষ বা বিপক্ষ না নিয়ে যে মধ্যস্থতা করে ফেললেন। তাতে অবশ্য দর্শকের মনোরঞ্জনে ঘাটতি হবে না। একটি প্রচলিত ওয়েবসাইটের মামলার জেরে নির্মাতাদের ছবির নামও যে ছেঁটে ফেলতে হয়েছে। বার বার ‘বিপ’ বড্ড বিরক্তিকর! বেচারা অমিত। সেই শুরু থেকে ছবি মুক্তি পর্যন্ত তাঁর ভোগান্তির শেষ নেই। কিন্তু দর্শক তাঁর সঙ্গে থাকবেন এমন আশা করা যায়।

অভিনন্দন দত্ত

টলিউডে নতুন মুখ

‘নায়িকার ভূমিকায়’ ছবি দিয়ে টলিউডে পা রাখলেন দিশা নন্দী। ইতিমধ্যেই তিনি তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছেন। বালাজি,সাহারা ওয়ান-এর কয়েকটি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। ছবির প্রচারে এসে জানালেন কিছু কথা।
 আপনি কি কলকাতারই মেয়ে?
 একদম। বাড়ি গড়িয়ায়। বাবার ছিল ডিফেন্সে চাকরি। সেই সূত্রে অনেকটা সময় মধ্যপ্রদেশে কেটেছে।
 অভিনয়ে এলেন কীভাবে?
 রঙ্গপট নাট্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নাটকে অভিনয় করতে করতে মডেলিংয়ের অফার পাই। সেটা ছিল ২০০২। প্রচুর মডেলিং করেছি।
২০০৫-এ মুম্বই গিয়ে নমিত কিশোর অ্যাক্টিং স্কুল-এ ভরতি হই। ভয়েস থ্রোয়িং, মডিউলেশন, স্ক্রিপ্টিং ইত্যাদি শিখেছি। এরপর সিরিয়ালে কাজ।
 ‘নায়িকার ভূমিকায়’ ছবিতে কীভাবে সুযোগ পেলেন? চরিত্রটি কেমন?
 এক বন্ধুর মাধ্যমে যোগাযোগ ঘটে। তাছাড়া প্রযোজক মনোজ জৈনের সঙ্গেও পরিচয় ছিল। এখানে একজন চিত্রপরিচালকের চরিত্রে অভিনয় করছি, নাম রুক্মিনী সেন। ভীষণ শর্ট টেম্পারড মহিলা। স্ট্রং অ্যাটিটিউড। চরিত্রটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক স্বাগত চৌধুরি মহিলাকেন্দ্রিক একটি স্মার্ট ছবি তৈরি করেছেন।
 আগামী প্রজেক্ট?
 অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দেখা যাক কী হয়।

সাক্ষাৎকার: অজয় মুখোপাধ্যায়  
ছবি- ভাস্কর মুখোপাধ্যায়          




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta