কলকাতা, শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭, ১০ চৈত্র ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

ত্রিকোণ প্রেমের ছবি পরকীয়া


অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও লেখক শংকরলাল ভট্টাচার্য পরিচালনার জগতে পা রাখলেন। তাঁর ছবির নাম ‘পরকীয়া’।
বহুবার এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সেলুলয়েডে ছবি হয়েছে। সাধারণভাবে ত্রিকোণ সম্পর্কের লুকোচুরির আড়ালে সেখানে আমরা শরীরী প্রাধান্যই দেখেছি। সেই চেনা ছক যখন শংকরলালের কল্পনার ছোঁয়ায় চলচ্চিত্রে রূপ নিতে শুরু করে, তখন সে ছবি অন্যরকম হতে বাধ্য। সেই টানেই চলে আসা পারপেল মুভি টাউনে। সেখানে পরিচালক ‘পরকীয়া’র দৃশ্য গ্রহণে ব্যস্ত।
স্টুডিওতে পৌঁছে দেখলাম নার্সিংহোমের সেট। শয্যায় শুয়ে রয়েছে শর্মিলা। তার এবং বিভাসের পনেরো বছরের বিবাহ বার্ষিকীর দিন নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শর্মিলা। যদিও সে কৃতকার্য হয় না। এই দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে ছবিটি শুরু হয়। তারপর ফ্ল্যাশব্যাকের হাত ধরে কাহিনি এগিয়ে যায়।
নিজেরই লেখা কাহিনিকে বেছে নিয়েছেন পরিচালক। চিত্রনাট্য এবং সংলাপ তাঁরই। ছবি প্রসঙ্গে শংকরলাল জানালেন, ‘ছবিটি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প হলেও, রগরগে নয়। বরং তিনটি প্রধান চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এটা একটা তদন্ত। বিভাস এবং শর্মিলার ১৫ বছরের বিবাহিত জীবন। কোনও সন্তান নেই। ফলে দু’জনের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। বিভাসের কর্মজীবনের ব্যস্ততাও এর জন্য দায়ি। এই ফাঁকটাতেই কখনও যেন ঢুকে পড়ে মেঘনা। সে বিভাসেরই সহকর্মী বয়সেও অনেকটা ছোট। মেঘনার অল্প বয়স, তার সপ্রতিভ চালচলন, খুনসুটি, মজা করা—ইত্যাদিতে তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে বিভাস। একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে একটা খোঁজ শুরু হয়। যদিও ছবির নাম পরকীয়া, আসলে এটি একটি প্রেমের ছবি।’
বিভাসের চরিত্রে অভিনয় করছেন তথাগত মুখোপাধ্যায়। কেমন লাগছে? উত্তরে তথাগত বললেন, ‘৮০-র দশকের শেষের দিক বা ৯০-এর গোড়ারদিকে শিক্ষিত, ভদ্র বাঙালি মুখ বিভাস। শর্মিলাকে বিয়ে করে। কিন্তু সময় যত এগয়, সে তার স্ত্রীর মধ্যে সেই আগের প্রেমিকাকে খুঁজে পায় না। অফিসের যে মেয়েটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়, সেই মেঘনার মধ্যেও সে তার স্ত্রীকে খুঁজে ফেরে। গভীর এক সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়ে। অথচ সে দু’জনকেই ভালোবাসে, কাউকেই ছাড়তে পারে না। আসলে আমার মনে হয়, বিভাস সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তবে সে স্ত্রীকে যেমন মেঘনার কথা বলে, তেমনই মেঘনার কাছে তার বিবাহিত জীবনের কথা লুকায় না। বেশ অন্যরকমের চরিত্র। আমার ভালো লাগছে।’
এই প্রথম স্বামী-স্ত্রী তথাগত এবং দেবালীনা টেলি পর্দাতেও দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করছেন। শর্মিলাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জাগতে চাইলে দেবলীনাদত্ত মুখোপাধ্যায় জানালেন, ‘এটা একটা ত্রিকোণ লাভ স্টোরি। বিভাসকে ঘিরেই গল্প। বিভাসের সঙ্গে শর্মিলার ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবন। ছবিটা চারটি সময়কালকে ধরছে—বিভাস-শর্মিলার কলেজ জীবন, তারপর বিয়ে, বিয়ের সাত-আট বছর পর এবং বিয়ের পনেরো বছর পর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কগুলোর কীভাবে বদল ঘটছে এবং পরিণতি কী পাচ্ছ সেটাই ছবির কেন্দ্রে থাকছে। বিস্তীর্ণ সময় দু’জনের সম্পর্কের নানা রঙিন ??? থাকছে। বিভাস আর মেঘনার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েও শর্মিলার প্রতিক্রিয়া কেমন... এসবই থাকবে ছবিতে। দেবলীনা সব মিলিয়ে খুবই উত্তেজিত। তার কাছে এ ধরনের চরিত্র প্রায় নতুনই বলা যায়। একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিত পরিচালক সম্পর্কে। তাঁর কথায়, ‘ওঁর কাছে গোটা ছবিটা পরিষ্কার। প্রতিটি স্পটের এবং শব্দের মানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ফলে কাজ করতে খুব সুবিধে হচ্ছে।’
চরিত্রটিতে অভিনয় করছেন ত্রিধা চৌধুরি। কেমন অভিজ্ঞা জানতে চাইলে অভিনেত্রী জানালেন, ‘শংকরলাল ভট্টাচার্য সাংবাদিক এবং লেখক। ওঁরই কাহিনি। কাজেই পুরো ব্যাপারটা ওঁর কাছে পরিষ্কার। আমাকে দিয়ে ওয়ার্ক শপও করিয়েছেন বিভাস, শর্মিলা এবং মেঘনা—তিনটি চরিত্রই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একজনকে সরালে অন্য দুটি চরিত্রের গুরুত্ব থাকবে না। মেঘনা সাবলম্বি, স্বাভাবিক, আধুনিক মনস্ক একটি মেয়ে। তার এবং বিভাসের বয়সের একটা তফাৎ থাকলেও বন্ধুত্ব করতে অসুবিধে হয় না। আসলে দু’জনেই একে অপরের থেকে শিখছে। সে এমন একজনকে পেল যার কাছে সে ??? সবকিছু বলতে পারছে। একটা সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। বেশ ‘সিগনিফিকেন্ট’ একটা চরিত্র। একই সঙ্গে ‘ম্যাচিওরড’।
ছবির শেষ পরিণতি কী হবে, সে ব্যাপারে শিল্পীরা এবং পরিচালক কিছুই বলতে চাইলেন না। তাহলে তো মজাটাই নষ্ট হয়ে যাবে। বরং ছবির সংগীত নিয়ে পরিচালক বেশ উচ্ছ্বসিত। ছবিটির সুরকার তেজেন্দ্র রবীন্দ্রসংগীত। গেয়েছেন ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি রবীন্দ্রসংগীত। গেয়েছেন জয়তী চক্রবর্তী। একটি গানে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০-এর দশকের বিলিতি সুর। যে সুর শুনলে পা আর স্থির নাচের থাকবে না। পরিচালক জানালেন— ওই সুরের সঙ্গে নাচের দৃশ্যের কথাও ভেবেছি। এই গানটি শোনা যাবে সুব্রত সেনগুপ্তর কণ্ঠে। ওপেন ডোর এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত ‘পরকীয়া’-র অন্তদৃশ্য গ্রহণ করা হচ্ছে পার্পেল মুভি টাউনে। এছাড়া আউটডোর হবে কলকাতায় এবং দার্জিলিং-এ। ছবিটির কার্যনির্বাহী পরিচালক রাণা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অজয় মুখোপাধ্যায়

ট্র্যাপড

বাঁচার জন্য মানুষ কী কী করতে পারে? সিচুয়েশনটা কীরকম? ভেবে দেখুন ফাঁকা বহুতলের কোনও ফ্ল্যাটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে পড়েছেন-জল নেই, বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই! কী করবেন? ‘ট্র্যাপড’ সম্ভাব্য উত্তরগুলো দিতে পারে।
প্রেমিকার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকার জন্য রাতারাতি কম বাজেটে মুম্বইয়ের এক নির্জন আবাসনে বাড়ি ভাড়া নেয় শৌর্য (রাজকুমার রাও)। কিন্তু কপাল খারাপ। প্রথম দিনই সে বাড়িতে আটকা পরে। হঠাৎই সদর দরজা আটকে যায়। চাবি রয়ে যায় বাইরে। কী করবে সে? ওদিকে বাড়ির দারোয়ান আবার কানে কম শোনে। শৌর্যর মোবাইলেও চার্জ নেই। চেঁচালে কন্ঠস্বর নীচে পৌঁছয় না।
ছবিটা দেখতে গিয়ে টম হ্যাঙ্কস অভিনীত ‘কাস্ট অ্যাওয়ে’ বা ড্যানি বয়েলের ‘১২৭ আওয়ারস’ এর কথা মনে পড়তেই পারে। কিন্তু ‘ট্র্যাপড’ এর মধ্যে একটা আলাদা ‘সেন্স অব ইনসিকিওরিটি’ আছে। নিজের বাসস্থানের নিরাপত্তাহীনতা! সারভাইভল অব দ্য ফিটেস্ট। বহুতলের বারান্দায় একটা প্রাণ বাঁচার জন্য ছটফট করছে। নীচে ব্যস্ত জীবন অবিচল- কোনও কিছুতে বাধা নেই। পরিচালকের বার্ডস আই নগর জীবনকে দেখায় শৌর্যের চোখে। আসলে আজকের লাইফস্টাইলে কারও ঘুরে দাঁড়ানোর সময় কোথায়! শৌর্যর স্ট্রাগলটাও তাই শেষে একান্ত আপন হয়ে ওঠে। সাক্ষী থাকে ফ্ল্যাটের ছোট্ট ইঁদুরটা এবং প্রেক্ষাগৃহের দর্শক। রাজকুমার রাও এক কথায় অসাধারণ। ছবিতে এক একটা দিনের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের পরিবর্তন প্রসংশনীয়। গীতাঞ্জলি থাপা ঠিকঠাক। সিদ্ধার্থ দেওয়ানের ক্যামেরায় ফ্ল্যাটের ছোট স্পেসে ফলোআপ বা ট্র্যাকিং দর্শককে যেন শৌর্যের যাত্রায় টেনে আনে। পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানিকে ধন্যবাদ। ‘ট্র্যাপড’ আপনার বইয়ের তাকের সেই সহায়ক গ্রন্থ যা পরিস্থিতি বিচারে অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

অভিনন্দন দত্ত



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta