কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

লোকসভায় পেশ হল জিএসটি সংক্রান্ত চারটি বিল, পাশ হবে বুধবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: ক্রেতা-গ্রহীতার ওপর পণ্য-পরিষেবার প্রভূত করের বোঝা কমানো এবং একইসঙ্গে রাজ্যগুলির কর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনও ক্ষতি হবে না, এই উভয় দিক বজায় রাখার লক্ষ্যেই আজ লোকসভায় পেশ হল জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা) সংক্রান্ত চারটি বিল। কেবল পেশই নয়। বিলগুলি দ্রুত আইনে পরিণত করতে আগামীকালই লোকসভায় আলোচনার শেষে পাশ করানোর উদ্যোগও নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেডি, সিপিএমের মতো বিরোধীদের আপত্তিতে তা বুধবার লোকসভায় আলোচনা শেষে পাশ হবে বলে ঠিক হয়েছে। আগামী পয়লা জুলাই থেকে গোটা দেশে অভিন্ন কর ব্যবস্থা জিএসটি চালু করতে চায় কেন্দ্র।

সেই মতো আজ লোকসভায় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জিএসটি সংক্রান্ত চারটি বিল (সি-জিএসটি, আই-জিএসটি, ইউটি-জিএসটি এবং কম্পেনসেশন বিল ২০১৭) পেশ করলেন। বিলগুলিতে কী আছে? রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে গড়া জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে গত প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লাগাতার আলোচনায় কেন্দ্র-রাজ্য সহমতে অভিন্ন কর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে যেমন বিলে রয়েছে, একইসঙ্গে জিএসটি চালু হলে রাজ্যগুলি এতদিন যেভাবে কর আদায় করে আসছিল, তার যদি কোনও ক্ষতি হয়, তা নতুন আইন অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছর টানা পূরণ করা হবে বলে বলা হয়েছে। ‘দ্য গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (কম্পেনশন টু স্টেটস) বিল ২০১৭’ বলে তা অতি অবশ্যই পাবে রাজ্য। প্রতি মাসে দু’ দফায় ক্ষতিপূরণ মিলবে। রাজ্যগুলিকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অর্থ আদায় করতে কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ‘সেস’ বসানো হবে। একইসঙ্গে তৈরি হবে একটি তহবিল। টানা পাঁচ বছর রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ওই তহবিলে যে টাকা পড়ে থাকবে, তা কেন্দ্র-রাজ্য আধাআধি ভাগ করে নেবে। কেন্দ্রের প্রাপ্য ওই অর্ধেক টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের ভাঁড়ারে চলে যাবে। যে টাকা ভারত সরকার তার নানা কাজে খরচ করবে। বাকি অর্ধেক অর্থ রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

জিএসটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কোনও আপত্তি না থাকলেও রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি নিয়েই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তহবিল গড়ে ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাওয়ায় রা঩জ্যের আর কোনও আপত্তি নেই। একইসঙ্গে আইন মেনে জিএসটি চালু হওয়ার পর কোনও বিষয়ে অভিযোগ উঠলে ‘দ্য সেন্ট্রাল গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স বিল ২০১৭’ অনুযায়ী যে ট্রাইবুনাল গড়ার কথা বলা আছে। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানার কথাও বলা আছে।

রাজ্যগুলি যে বিভিন্ন পণ্য থেকে ভ্যাট, পারচেজ ট্যাক্স, এন্ট্রি ট্যাক্স, স্টেট সেস, সারচার্জ আদায় করে, সেসবই এস-জিএসটি বিলের অধীন চলে আসবে। এমনিতে ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ, এই চার ধরনের জিএসটি চালু হবে। সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি কার্যকর হতে পারে। সব মিলিয়ে চারটি বিলের ক্ষেত্রেই একদিকে যেমন ক্রেতা এবং গ্রহীতার ওপর একাধিক করের বোঝা কমবে বলেই কেন্দ্রের মত, একইভাবে রাজ্যগুলিরও কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না।

এদিকে, বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলেরই তেমন কোনও আপত্তি না থাকলেও আজ যেভাবে সরকার সংসদকে একপ্রকার অন্ধকারে রেখে বিল চারটি পেশ করল, তাতে আপত্তি তুলল কংগ্রেস, তৃণমূল। গত ২৩ মার্চ বিল চারটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পরেও কেন তা আজ সোমবারের লোকসভার কার্যবিবরণীতে তালিকাবদ্ধ হল না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিরোধীরা। একইসঙ্গে আজই সব মিলিয়ে ১৭৬ পাতার চারটি বিল পেশ করেই তা পাশের জন্য সরকার তাড়াহুড়ো করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠল। বিরোধী এমপিদের দাবি, বিলগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তা পড়ার জন্য অন্তত একদিন সময় দিতে হবে। সংসদ বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার অবশ্য বক্তব্য, শুক্রবার মধ্যরাতে ওয়েবসাইটে আপলোডের পাশাপাশি শনিবার এমপিদের বাড়ি বাড়ি বিল চারটির কপি পৌঁছে গিয়েছে। ফলে তাড়াহুড়ো কোথায় হল? লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনও জানিয়ে দিলেন, মাঝে শনি-রবি সংসদ বন্ধ থাকায় তা লোকসভার কার্যবিবরণীতে ছাপা যায়নি। তাই আজ অতিরিক্ত কার্যবিবরণীতে ছাপা হয়েছে।

সমবায় সংস্থাকে ঢাল করে টাকা তুলেছে অ্যালকেমিস্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সমবায় সংস্থার আড়ালেও অ্যালকেমিস্টের জন্য টাকা তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কে ডি সিং। ‘দি ইন্ডিয়ান’ নামে ওই সোসাইটির আড়ালে অ্যালকেমিস্টের বিভিন্ন স্কিমের বিক্রি চালানো হয়েছে। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য হাতে এসেছে অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে গঠিত রাজ্য সরকারের বিশেষ শাখার। অ্যালকেমিস্টের ‘প্রাইভেট প্লেসমেন্ট’ নীতি অনুযায়ী বাইরের লোকেদের কাছ থেকে টাকা তোলা সম্ভব নয়। অর্থাৎ এই নীতিতে কোম্পানির ভিতরের লোকেরাই কেবল সংস্থা টাকা রাখার যে স্কিম চালু করেছে, তাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই কারণেই বাইরের লোকের কাছ থেকে টাকা তুলতে মোড়ক হিসাবে কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে আনা হয়। যা পরে অন্যান্য চিটফান্ড সংস্থাও অনুকরণ করে।

এই বিষয়ে কেডি সিংয়ের বক্তব্য জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অ্যালকেমিস্টের এক কর্তার বক্তব্য, নিয়ম মেনেই যে তাঁদের সংস্থা টাকা তুলেছে, তার কাগজপত্রও রয়েছে। এমনকী অনুমতিও রয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকসহ অন্যান্য অনুমোদন প্রদানকারী সংস্থার। সময়মতো তাঁরা তা প্রকাশ করবেন। আর ‘দি ইন্ডিয়ান’ নামে কোনও সংস্থার কথা তাঁদের জানা নেই।

তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, শুরুর দিকে আমানতকারীদের টাকা জমা রাখার প্রমাণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে হলুদ রঙের কার্ড। এমনকী সাধারণ খাতাতেও টাকা জমা দেওয়া আমানতকারীদের নাম লিখে রাখা হত। যার পুরোটাই চলেছে কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে সামনে রেখে। দীর্ঘদিন আমানতকারীদের কোনও সার্টিফিকেটও ইস্যু করা হয়নি। হলুদ কার্ড বা খাতায় লিখে রাখা টাকার সিংহভাগই কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি বলে গোয়েন্দারা জানতে পারছেন। যা গিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কোম্পানির কর্ণধাররা এই টাকাতেই নিজের নামে সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ। এই কায়দায় কত টাকা নয়ছয় করা হয়েছে, তার হদিশ করার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।

কেডি সিংয়ের সংস্থা অ্যালকেমিস্টের টাকা তোলার সূত্রপাত কবে, তার তথ্য ঘাঁটা শুরু করেছেন ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্স উইংয়ের কর্তারা। তা করতে গিয়েই জানা যাচ্ছে, কেডি সিংয়ের চিটফান্ড ব্যাবসার সূত্রপাত অনেকদিন আগেই। টুব্রো নাম পালটে হয় অ্যালকেমিস্ট। এই সংস্থা আমানতকারীদের কাছ থেকে যে টাকা সংগ্রহ করেছিল, তা অ্যালকেমিস্টের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, টুব্রো বা অ্যালকেমিস্ট খাতায়কলমে দেখায়, তারা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ছেড়েছে। যা কেবল কোম্পানির কর্মীরাই কিনতে পারবেন। কিন্তু কোম্পানির আসল উদ্দেশ্য ছিল বাজার থেকে টাকা তোলা। এই স্কিমে বাইরে থেকে টাকা তোলা যে সম্ভব নয়, তা বুঝতে পেরেই সিদ্ধান্ত হয়, দি ইন্ডিয়ান নামে একটি কো-অপারেটিভ সোসাইটি খোলা হবে। কিন্তু এই সংস্থার সঙ্গে কে ডি সিং বা তাঁর পরিবারের কোনও সম্পর্কই নেই, তা বোঝাতে এই সোসাইটির ডিরেক্টর পদে বসানো হয় অন্য ব্যক্তিদের। এরপর দুই সংস্থার মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয়, এই কোম্পানি অ্যালকেমিস্টের বিভিন্ন প্রোডাক্ট মার্কেটিং করবে। এর জন্য ওই সোসাইটি কমিশনও পাবে। গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, আসলে প্রোডাক্ট মার্কেটিংয়ের নামে অ্যালকেমিস্টের বিভিন্ন স্কিমের প্রচার করা হয়েছে। অ্যালকেমিস্টের জন্য তোলা হয়েছে টাকা। দি ইন্ডিয়ান নামে ওই কো-অপারেটিভকে ঢাল করে বছরের পর বছর ধরে বাজার থেকে টাকা তুলে গিয়েছে অ্যালকেমিস্ট। জানা যাচ্ছে, এই কায়দায় সংগৃহীত টাকার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি। কো-অপারেটিভ সোসাইটির আড়ালে কার মদতে অ্যালকেমিস্ট এই ব্যাবসা চালিয়ে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন অনুমোদনপ্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে অ্যালকেমিস্টের কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে অডিট রিপোর্ট। কে বা কারা এই সংস্থার অডিট করতেন এবং রিপোর্টে কী দেখানো হত, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে।

ট্রান্সপোর্ট কার্ড বিক্রি মাত্র ৫০টি
সরকারি বাসে টিকিট ফাঁকি রুখতে আচমকা হানা কর্তাদের, ধৃত ১০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি বাসের এক শ্রেণির কন্ডাক্টরদের সঙ্গে যাত্রীদের গোপন বোঝাপড়ায় টিকিট ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিষয়টি জানেন নিগমের কর্তারাও। এতে দিনের পর দিন রাজস্বে ক্ষতি হচ্ছে তাদের। এর মোকাবিলায় সোমবার গোটা দিন ধরে শহরের নানা রুটে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করলেন পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের কর্তারা। ধরা পড়লেন প্রায় ১০০জন যাত্রী।

নিগমকর্তাদের বক্তব্য, নিয়মিত নির্দিষ্ট রুটে যাতায়াত করেন এমন যাত্রীদের মধ্যেই টিকিট ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের সুবাদে বাসকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়ে যায়। তৈরি হয় গোপন বোঝাপড়া। টিকিট না দিয়ে বা কম মূল্যের টিকিট দিয়ে ভাড়া কাটেন এক শ্রেণির কন্ডাক্টর। এতে দু’পক্ষেরই লাভ থাকে। ক্ষতির বহর বাড়ে নিগমের। নিগমের এক কর্তা বলেন, এদিন শহরের নানা প্রান্তে অভিযান চালানো হয়েছিল। রাস্তায় নেমেছিলেন অফিসাররাও। তাতেই ধরা পড়েন প্রায় ১০০ যাত্রী। তাঁদের থেকে ১৫০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কন্ডাক্টরদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী দিনেও এমন অভিযান চালানো হবে বলে ঠিক করেছেন তাঁরা।

কিন্তু টিকিট ফাঁকি রুখতে যে ট্রান্সপোর্ট কার্ডের সূচনা হয়েছিল, তার কী হল? নিগমের অনেক কন্ডাক্টরই এখনও এই কার্ড সম্পর্কে শুনেছেন মাত্র। কীভাবে সেই কার্ড ব্যবহার করা হবে, তাও জানেন না অনেকেই। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের ট্রান্সপোর্ট কার্ডের উদ্বোধন করেছিলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। সূচনার দিন তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রান্সপোর্ট কার্ড চালু হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের খুচরোর হ্যাপা পোহাতে হবে না। রাজস্ব ক্ষতি এড়ানোও সম্ভব হবে। তাতে আর্থিক স্বাস্থ্য ফিরবে নিগমের। অন্যান্য নিগমেও নয়া ব্যবস্থা রূপায়ণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। নিগমকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই ট্রান্সপোর্ট কার্ড গড়িয়া, যাদবপুর, করুণাময়ীসহ নিগমের একাধিক ডিপো এবং টার্মিনাসে পাওয়া যাবে। কার্ডের দাম পড়বে ৫০ টাকা। এই কার্ড ১০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করানো সম্ভব হবে।

নিগম সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত কমবেশি ৫০টি কার্ড বিক্রি হয়েছে। এই কার্ড সম্পর্কে আগামী দিনে যাত্রীদের মধ্যে প্রচার করা হবে। কন্ডাক্টরদেরও এই কার্ড নিয়ে এক দফা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও ফের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে বলে নিগমের এক কর্তা জানিয়েছেন।

সহজে জিএসটি বুঝতে ছোট থেকে বড়
সোনার দোকানের জন্য তৈরি হচ্ছে সফটওয়্যার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনার উপর কত শতাংশ হারে জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু জিএসটি’র যে চারটি ধাপ চূড়ান্ত হয়েছে, তাতে আবারও অশনি সংকেত দেখছে স্বর্ণশিল্প মহল। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তারা যে ১.২৫ শতাংশ হারে জিএসটি’র প্রস্তাব রেখেছে, এখনও সেই অঙ্কেই অনড় আছে তারা। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত জিএসটি’র সর্বনিম্ন হার পাঁচ শতাংশ। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশনের (জিজেএফ) কর্তারা সোমবার কলকাতায় এসে বলেন, জিএসটি’র হার সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে চলেছেন। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, জিএসটি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও হিসাব রাখার জন্য তাঁরা একটি সফটওয়্যার তৈরি করছেন, যা ছোট থেকে বড়— সব ধরনের স্বর্ণশিল্প সংস্থাকে সাহায্য করবে। তাঁরা বলেন, জিএসটির হার যাই-ই হোক না কেন, তার খুঁটিনাটি যাতে সব ধরনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বুঝতে পারেন, তার জন্য একটি সফটওয়্যার বানাচ্ছে জিজেএফ। তার কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১০০টি শহরে সেই বিষয়ে কর্মশালাও করা হবে সংগঠনের তরফে।

আগামী অর্থবর্ষ থেকে জিএসটি চালু হওয়ার কথা। জুলাই থেকে তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এদিকে জিএসটির যে হার নিয়ে সহমত হওয়া গিয়েছে, তা হল ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ। কিন্তু সোনার উপর কর কত শতাংশ বসবে, তা এখনও জানানো হয়নি। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নীতিন খান্ডেলওয়াল বলেন, আমরা ১.২৫ শতাংশ হারে জিএসটি চালু করার জন্য গোড়া থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। তাঁদের যুক্তি, জিএসটি’র হার এমন রাখা হোক, যাতে তা ভ্যাটের আশপাশে থাকে। এখন যেহেতু এক শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয় সোনার গয়নার উপর, তাই ১.২৫ শতাংশ হারে জিএসটি প্রযোজ্য হলে সরকারের রাজস্বের অঙ্কও বৃদ্ধি পাবে, আবার ক্রেতার উপর বাড়তি চাপ আসবে না। তাই কালোবাজারি ছাড়াই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে গয়নার বাজার।

প্রসঙ্গত, একমাত্র কেরল ছাড়া গোটা দেশে সোনার গয়নার উপর ভ্যাট নেওয়া হয় এক শতাংশ হারে। কেরলে সেই হার চার শতাংশ। যদি কোনও অলংকার প্রস্তুতকারক সংস্থার বছরে লেনদেনের অঙ্ক ১০ কোটি টাকার বেশি হয়, সেক্ষেত্রে সেই দোকানে ক্রেতা গয়না কিনতে এলে, তাঁকে আরও এক শতাংশ হারে এক্সাইজ ডিউটি মেটাতে হয়। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান শঙ্কর সেন বলেন, যদি সরকার ১.২৫ শতাংশ হারে জিএসটি চালু করে, তাহলে কর আদায় না হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারবে সরকার। ঘুরপথে গয়না কেনার বিষয়ে ক্রেতাদের মনোভাবেরও বদল হবে। তবে তাঁরা দাবি করেন, কারিগরদের জিএসটির আওতা থেকে বাদ রাখা হোক।

‘হুইট ব্লাস্ট’ আক্রান্ত গম গাছের জমিতে চাষ অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছত্রাক ঘটিত ‘হুইট ব্লাস্ট’ রোগে আক্রান্ত গম গাছের জমিতে নতুন করে কবে চাষ করা যাবে, তা এখনও অনিশ্চিত। চাষিদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এখনও রাজ্যকে কিছুই জানানো হয়নি। হুইট ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ার জন্য এবার মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে প্রায় আটশো হেক্টর জমিতে গম গাছ পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে হয়েছে। পুড়িয়ে নষ্ট না করলে এই সংক্রামক রোগ অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু জানিয়েছেন, এই এলাকার বাইরে কোথাও হুইট ব্লাস্ট রোগ গম গাছে ছড়ায়নি। তবে আক্রান্ত এলাকায় কবে নতুন করে চাষ করা যাবে, সেটা মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে। এখনও মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি।

দেশে এই প্রথম হুইট ব্লাস্ট রোগের দেখা মেলায় কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের রাজ্যে পাঠানো হয়। রাজ্য কৃষি দপ্তর ও কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা আলোচনা করে আক্রান্ত গম গাছ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ এছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করার আর কোনও উপায় ছিল না। হাওয়ার মাধ্যমে এই ছত্রাকঘটিত রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। পু঩ড়িয়ে সমূলে রোগ বিনাশ না করলে গোটা দেশে ফসলের এই ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। গম উৎপাদনের নিরিখে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের স্থান খুব একটা গুরত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এখান থেকে রোগ দেশের প্রধান গম উৎপাদক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৃষি ক্ষেত্রে দেশের বিরাট ক্ষতি হত।

গত মরশুমে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল হুইট ব্লাস্ট রোগ। ১০ হাজারের বেশি হেক্টরের জমির গম পুড়িয়ে নষ্ট করতে হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্যে যে আক্রান্ত গমের বীজ ঢুকেছে, সেব্যাপারে কৃষি দপ্তর নিশ্চিত। ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশ গম আমদানি করেছিল। সেই গম থেকে বাংলাদেশে হুইট ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ে। কৃষিমন্ত্রীর দাবি, গত মরশুমে বাংলাদেশে গমের এই রোগ হওয়ার পর থেকে তাঁরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। নজরদারিও করা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবেই হোক আক্রান্ত গমের বীজ এপারে চলে আসে। কম দামে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের বীজ চাষিরা কিনেছেন, এমনটাও হতে পারে।

এই রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি পেশ করেছে রাজ্য। সাধারণত যে হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, তার চেয়ে বেশি দাবি করা হয়েছে। গমের সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য যা কুইন্টাল প্রতি এখন প্রায় ১৬০০ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞরা ঘুরে গেলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্র এখনও কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত গম চাষিরা কবে নতুন করে চাষ করতে পারবেন, সেটাও অনিশ্চিত হয়ে আছে। বৃষ্টির পর চাষ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়ার আগে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

হারিয়ে যাওয়া সুগন্ধি ধানের চাষ বাড়াতে উদ্যোগ রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হারিয়ে যাওয়া সুগন্ধি ধানের সন্ধানে এখন হন্যে হয়ে ঘুরছে রাজ্য কৃষি দপ্তর। প্রায় হারিয়ে যাওয়া ‘রাঁধুনি পাগল’, ‘রাধাতিলক’, ‘বাদশাভোগ’ প্রভৃতি সুগন্ধি ধানকে ফের বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনার জন্য কৃষি দপ্তরের বিজ্ঞানীরা লড়াই শুরু করেছেন। রাজ্যের সুগন্ধি ধান হিসাবে বিশেষ পরিচিত হল ‘গোবিন্দভোগ’ ও ‘তুলাইপঞ্জি’। এই দুই ধরনের ধানের বেশি চাষ হয় যথাক্রমে বর্ধমানের রায়না ও সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়ির ‘কালো নুলিয়ার’ সুগন্ধি ধান হিসাবে পরিচিতি আছে। যদিও কালো নুলিয়ার চাষ অন্য দু’টি সুগন্ধি ধানের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু এর বাইরে এ রাজ্যে একসময় বহু সুগন্ধি ধানের চাষ হত। যার অনেকগুলি হারিয়ে গিয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া ধান খুঁজতে কৃষি দপ্তর অভিযান চালিয়েছে ভিন রাজ্যেও। কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু জানিয়েছেন, অসম, অরুণাচল, কেরলসহ অনেক রাজ্য থেকে ধান নিয়ে আসা হয়েছে। একসময় রাজ্যে এই ধানগুলির চাষ হত। কিন্তু পরে এ রাজ্য থেকে এই চাষ হারিয়ে যায়। তবে ভিন রাজ্যে টিকেছিল ওই ধান। বাঁকুড়ায় চাষ হত এমন এক ধরনের ধান চলে গিয়েছিল কেরলে। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ওই ধানকে। কেরল থেকে আনার জন্য ওই ধানের নাম হয়েছে ‘কেরল সুন্দরী’। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাতশোর বেশি হারিয়ে যাওয়া ধানকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই ধানগুলির চাষ বাড়ানোর জন্য এখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জয়নগরের মোয়ার আসল স্বাদ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় কনকচূড় ধানের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর ও সংলগ্ন এলাকায় একসময় এই ধানের ভালো চাষ হত। এখন জয়নগর মোয়া তৈরির জন্য কনকচূড় ধান পুরোপুরি ব্যবহৃত হয় না বলে কৃষি দপ্তরের কাছে রিপোর্ট এসেছে। এর ফলে জয়নগরের মোয়ার আসল স্বাদ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। মোয়ার স্বাদ ফিরিয়ে আনতে কনকচূড় ধানের চাষ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে কৃষি দপ্তর।

ধানের বীজ ফিরিয়ে আনা হল প্রাথমিক কাজ। এর চাষ বাড়ানোর জন্য অনেক কাজ করতে হয়। সেই কাজ হচ্ছে চুঁচুড়ার রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সহ কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন গবেষণাগার এবং দু’টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন, হারিয়ে যাওয়া এই ধানগুলির চাষ এখন কতটা করা সম্ভব। চাষ করলে তা কতটা লাভজনক হবে। গবেষণাগারে পরীক্ষার পর পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করা হচ্ছে। সাফল্য এলে বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই বীজ চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সুগন্ধিসহ বিশেষ ধরনের ধানের চাষ সব জায়গায় করা সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কোনও কোনও প্রজাতির ধান তার গুণগত মান বজায় রাখতে পারে না। মাটি, জল, হাওয়ার উপর নির্ভর করে ধানের গুণ। যেমন কনকচূড় ধানের চাষ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় হলে তবেই গুণগত মান বজায় থাকে। গোবিন্দভোগ, তুলাইপঞ্জি, কালো নুলিয়ার ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। তাই চাষের সময় এদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া ধানের বীজ উৎপাদনের ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য তৎপর হয়েছে দপ্তর। সুগন্ধি চাল নিয়ে বইপত্র প্রকাশ করছে রাজ্যের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।

সুগন্ধি ধানের পাশাপাশি সুগন্ধি ডালের চাষ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে কৃষি দপ্তর। মালদহের ভূতনির চরে উৎকৃষ্ট মানের সোনা মুগের ডাল উৎপাদন হয়। হাওড়ার কিছু এলাকা সোনা মুগের চাষের খ্যাতি আছে। এই সব এলাকায় ডালের উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে কৃষি দপ্তর।

পর্যটনের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ এই রাজ্যের জন্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: পর্যটন খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দপ্রাপ্তির নিরিখে দেশের অন্য রাজ্যগুলির থেকে এগিয়েই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের মূলত উপকূলবর্তী এলাকাগুলির উন্নয়নের কাজেই ওই অর্থ ব্যবহৃত হবে। প্রধানত কেন্দ্রীয় সরকারের স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের আওতাতেই প্রায় ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাংলার জন্য। আজ লোকসভায় এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী মহেশ শর্মা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বাংলার উদয়পুর, দীঘা, শংকরপুর, তাজপুর, মন্দারমণি, ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি এবং হেনরি আইল্যান্ডের উন্নয়নে ওই বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করবে পশ্চিমবঙ্গ। একইভাবে বেলুড়ের উন্নয়নের জন্যও প্রায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা আজ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ‘প্রসাদ’ বা ‘ন্যাশনাল মিশন অন পিলগ্রিমেজ রিজুভিনেশন অ্যান্ড স্পিরিচুয়াল অগমেনটেশন ড্রাইভ’ প্রকল্পের আওতায় বেলুড়ের উন্নয়নের কাজ চালাবে রাজ্য সরকার।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলে নয়া সিসিএম

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের নতুন চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) হলেন প্রমোদকুমার জেনা। সোমবার তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে তিনি মেট্রো রেলের চিফ ট্রাফিক ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেল জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৭ সালে। রেলের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলেছেন এই অফিসার। তিনি দেশে-বিদেশে নানা প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

২৯টি ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাত্রীদের সুবিধার জন্য ২৯টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে একটি করে অতিরিক্ত সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণির অসংরক্ষিত কোচ যুক্ত করবে পূর্ব রেল। ২৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বর্ধমান-মালদহ প্যাসেঞ্জার, রামপুরহাট-গয়া প্যাসেঞ্জার, হাওড়া-জয়নগর প্যাসেঞ্জার, হাওড়া-রাজগীর প্যাসেঞ্জারসহ অন্যান্য ট্রেনে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta