কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

শিল্প সম্মেলনে নজর কাড়ল বেলুন-বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেলুনে চড়ে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার ব্যবস্থা অনেকদিন ধরেই চলছে। তবে এ রাজ্যে এই প্রথম বেলুনের মধ্যে দু’দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল কলকাতায়। বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে এবারের আকর্ষণ ছিল এই বেলুন-বৈঠক। বেলুনটির মধ্যে ছিল দু’টি চেম্বার। একটি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্য, অপরটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। লন্ডন থেকে ওই বেলুন আনা হয়েছে। সেই বেলুনের মধ্যেই ২৯টি দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলুনটি সবার নজর কাড়ে। শিল্প সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা ঘুরে ঘুরে বেলুনটি দেখেন। তার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিও তোলেন।

বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজক শিল্প দপ্তরের তরফে এই বেলুনটিকে বলা হয়েছে ‘স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার’। লন্ডনে গিয়ে এই ধরনের বেলুনের দেখা পান রাজ্য সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। তখনই এখানে এটি আনা হবে বলে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হয়। তিনি উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেন, যদি নিরাপদ হয়, তবে আনতে পারো। এরপরই একটি এজেন্সির মাধ্যমে লন্ডন থেকে বেলুনটি কলকাতায় আনা হয়। সেখানে এ ধরনের বেলুন-বৈঠক হয়। তবে গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও এটা আনা হয়েছিল।

৩০ মিটার উচ্চতার ২৫ মিটার ব্যাসার্ধের এই বিশালকার বেলুনটি ছিল শিল্প সম্মেলনের কেন্দ্রস্থলে। দেখতে অনেকটা গ্লোবের মতো। সেখানে হুট করে ঢোকা যায় না। যে সংস্থার বেলুনটি, তার কর্মীরাই দরজা খুলে দিতেন। ঢোকার জন্য প্রতিটি প্রবেশপথে রয়েছে দু’টি দরজা। বেলুনের তিনদিকে দরজা রয়েছে। দু’দিকে যাতায়াতের ব্যবস্থা। তৃতীয় প্রবেশপথে ওয়াশরুম এবং লাঞ্চ এরিনায় যাওয়ার সুযোগ। ওই দরজার পাশেই লাগানো টয়লেট-কার।

দরজা দিয়ে ঢুকে বসার জন্য ছিল সোফা সেট। সুন্দর ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন করা দু’টি ঘর। ঘরের ফার্নিচারও হেরিটেজ কালচারের। দেওয়ালে নামী শিল্পীদের আঁকা ছবি। ঘরের বাইরে ‘মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী’ নামে প্লেট। মুখ্যমন্ত্রী সেখানেই দফায় দফায় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বরাষ্ট্রসচিব মলয় দে, শিল্পসচিব কৃষ্ণা গুপ্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বেলুনটিতে রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ ছিল চেয়ার টেবিল এবং তার পাশে ছিল জাতীয় পতাকা। ছিল টেলিফোন, দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন রাইসিনা হিলসের সঙ্গে হটলাইন। তবে ঘর দু’টির মাথায় কোনও ছাদ ছিল না। ঘরের বাইরে ছিল ২৯টি দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের বসার ব্যবস্থা। সেই সব দেশের পতাকাও স্ট্যান্ডে লাগানো ছিল। অন্য পাশে ছিল কফিশপ। যেখান থেকে দেশ-বিদেশের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য দার্জিলিং চা, কফি, বিস্কুট দেওয়া হচ্ছিল।

বেলুনের ছাদে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা যেমন পাহাড়, ডুয়ার্স, জঙ্গলমহলের ছবি দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্প, সবুজ সাথি প্রকল্পসহ নানাবিধ সরকারি কাজের ছবি। সেই সঙ্গে দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে নানা উৎসব দেখানো হয়।

ওই বেলুনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী বলেন, যেভাবে বেলুন হাওয়া দিয়ে ওড়ানো হয়, ঠিক তেমনই এটির ভিতরে হাওয়া ঢোকানো হয়। তবে এটি আকাশে ওড়ে না। মাটির সঙ্গে স্থির থাকে। কোনও কারণে হাওয়া বেরিয়ে গেলে এর ভিতরে থাকা মানুষেরা বেরিয়ে যেতে চার মিনিট সময় পাবেন। অবশ্য দু’দিন ধরে নির্বিঘ্নেই ভিভিআইপি বেলুন-বৈঠক হল।

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন হবে কলকাতায়
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়  কলকাতা

নভেম্বর মাসের ২৬-২৭ তারিখ আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন ‘অরেসিস’ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। দেশে প্রথম এই শিল্প সম্মেলন হচ্ছে। দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামের ধাঁচে কলকাতায় হতে চলেছে ওই শিল্প সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের কমপক্ষে ৪৫০ শিল্পসংস্থার কর্তাব্যক্তিরা হাজির থাকবেন। গত বছর ব্যাংককে এই ধরনের সম্মেলন হয়েছিল। দি গ্লোবাল ভিসনস কমিউনিটির চেয়ারম্যান ডঃ ফ্র্যাঙ্ক জুরগ্যন রিখটর শনিবার সকালে শিল্প সম্মেলনে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। মমতাকে ‘অরেসিস’ কলকাতায় করার জন্য প্রস্তাব দেন রিখটর। মমতাও রাজি হয়ে যান। বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, থাইল্যান্ড থেকে রিখটর এসেছেন। তিনি এ রাজ্যে আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন অরেসিস করতে চান। আমরা রাজি আছি। সরকারের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামের প্রাক্তন কর্ণধার ফ্র্যাঙ্ক জুরগ্যান রিখটরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখানে বৃদ্ধির হার ভালো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হল কলকাতা। তাই এখানেই ওই সম্মেলন করব বলে ঠিক করেছি। ৪৫০টি সংস্থার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার ওই সম্মেলনে হাজির থাকবেন। এর আগে এই সম্মেলন হয়েছিল ব্যাংককে। যেখানে এ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এখানে ওই সম্মেলন করার ব্যাপারে রাজি হয়েছেন। আমরা খুবই আনন্দিত।

নিউটাউনে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। সেখানে তিন হাজার মানুষ একসঙ্গে বসতে পারেন, এমন কনভেনশন সেন্টার তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও একশো রুম থাকবে। ফলে বিদেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা সেখানে থাকতে পারেন। হোটেল বুক করতে হবে না। সম্প্রতি একটি পাঁচতারা হোটেল চালু হয়েছে। আরও একটি চালু হতে চলেছে। এই কনভেনশন সেন্টারের কাজ শেষ হয়ে গেলে সেখানেই ওই শিল্প সম্মেলন হবে। যেখানে বিশ্বের অর্থনীতি থেকে শিল্পের অবস্থা, স্থিতিশীল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। রাজ্যে এ ধরনের শিল্প সম্মেলন খুবই সম্মানের বিষয়। এর ফলে বিদেশের মাটিতে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়বে। রাজ্য সরকারের তরফেও বিদেশি শিল্পসংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে বাংলার শিল্পের পরিবেশ তুলে ধরা যাবে।

এবার বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ডেস্টিনেশন বেঙ্গল। অর্থাৎ শিল্পের মানচিত্রে বিদেশের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে তুলে ধরা। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী বা সচিব, এমনকী বড় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এবারের বিজনেস সামিটে না এলেও ২৯টি দেশ থেকে ২০০ জন প্রতিনিধি এসেছেন। আসেন কয়েকজন মন্ত্রীও। তাঁরা বিভিন্ন সেক্টরের উপর আলোচনা করেন। কয়লা খনি, পরিবহণ, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বিদেশি শিল্পসংস্থাগুলি। বিশেষ করে জার্মান, ইতালি, জাপান, চীন কয়েকটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এবার অরেসিস-এর মতো আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন কলকাতায় হওয়া খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। যা দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের রাজ্য সম্পর্কে আকর্ষিত করবে। সেখানে আলোচনার প্রধান বিষয় হল, স্থিতিশীল উন্নয়ন। ২০০৫ সাল থেকেই অরেসিস সম্মেলন বিভিন্ন দেশে হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের শিল্পপ্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

এবার এ রাজ্যে ওই সম্মেলন হতে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, আমাদের রাজ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির হার বেড়েছে। গত ছ’বছরে রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ভালো রাস্তা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো। জমির কোনও সমস্যা নেই। শ্রমিক অসন্তোষ নেই। বিনিয়োগে স্থিতিশীল উন্নয়নের পক্ষেই সরকার কাজ করছে। আমি অরেসিস-এর গত বছরের সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তখনই রাজ্যের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলাম। থাইল্যান্ড থেকে ফ্র্যাঙ্ক জুরগ্যান রিখটর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এখানে এ বছরের সম্মেলন করবেন। যা খুবই গর্বের বিষয়। তিনি এ রাজ্যকে বাছায় আমরা খুবই আনন্দিত। বিশ্বের নামীদামি শিল্পসংস্থার সামনে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে দিগন্ত খুলে যাবে।

বাজারে এল টাটাদের নতুন গাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বাজারে এল টাটা সংস্থার নতুন এসইউভি গাড়ি ‘টাটা-হেক্সা’। শনিবার নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গাড়ি রাজ্যের বাজারে আনেন টাটা মোটরসের প্যাসেঞ্জার ভেহিকল বিজনেস ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) এস এন বর্মন। তিনি বলেন, মানুষ এই গাড়ি ব্যবহার করে দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বাজারে এখন ১২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৮ টাকায় (এক্স-শোরুম) গাড়িটি কেনা যাবে। পাঁচটি ভিন্ন রঙে পাওয়া যাবে ‘টাটা হেক্সা’। তিন বছর এবং এক লক্ষ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। ইঞ্জিনের ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে তিন বছর এবং দেড় লক্ষ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টির সীমা রাখা হয়েছে।






Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta