কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন


সানি লিয়ন নামটা শুনলেই একটা স্বল্পবসনা নারীর ছবি ভেসে ওঠে চখের সামনে। বলিউডের গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড তাঁর এমনই ছবি এঁকেছে। কিন্তু বাস্তবটা কী? সানি কি সত্যিই বলিউডের হট আইটেম? নাকি ব্যক্তিগতভাবে তিনি একেবারেই অন্যরকম?

হিংসুটে ডেনিয়েল!

সানি লিয়ন। বলিউডের হট আইটেম গার্ল। গুগুলের মোস্ট সার্চড নেম। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর পরে আসেন। দেশি বিদেশি সব পুরুষের মনেই তাঁর প্রতি অসম্ভব এক বাসনা। খানিকটা কামনাও বটে। এই যে এত পুরুষের আকর্ষণ তাতে স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবারের হিংসে হয় না? প্রশ্ন শুনে কেমন যেন আকাশ থেকে পড়লেন সানি লিয়ন। বললেন, ‘হিংসে! সে আবার কী? হিংসে হবে কেন? ড্যানি তো জানে আমি শুধু ওকেই ভালোবাসি। অন্য কোন পুরুষ আমার জন্য লালায়িত হল, কে আমায় কামনা করল তাতে আমার কি? ড্যানিরই বা কি?’ সত্যিই কি ড্যানিয়েল ওয়েবারের কখনও হিংসে হয়নি? কখনও মনে হয়নি অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে হলে... থামিয়ে দিয়ে ড্যানিয়েল বললেন, ‘অন্য কাউকে বিয়ে করলে ভালো লাগত এমন কথা কখনও মনে হয়নি। সানি আমার সোল মেট। আমার সুইটহার্ট। তবে হিংসে যে কখনও হয়নি তা নয়। হয়েছে। মনে হয়েছে, কেন আমারই বউয়ের প্রতি সবার এত নজর? তবে সানি আমার সব চেয়ে বড় বন্ধু। আমার মনের যে কোনও দ্বন্দ্ব আমি ওর সঙ্গে শেয়ার করি। তাই হিংসে হলে আমি ওকেই বলি। আর তখন ও এমন দুঃখিত চোখে আমর দিকে তাকায়, আমিই লজ্জা পেয়ে যাই।’ ড্যানিয়েল বলেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি একটা স্বচ্ছ সম্পর্ক থাকে তাহলে হিংসে খুব একটা কাবু করতে পারে না।

ব্যক্তিগত সানি

ক্যানাডায় তাঁর জন্ম। তবু মনে প্রাণে তিনি ভারতীয়। ‘এটা একটা পারিবারিক শিক্ষা।’ জানালেন সানি লিয়ন। তবে বিদেশে বেড়েওঠার কারণে একটু টমবয় গোছের তিনি চিরকালই। আর সেই জন্যই সানিকে হট আইটেম হিসেবে দেখে গোটা দুনিয়া। ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণই ঘরোয়া সানি লিয়ন। পরিবার তাঁর কাছে সব চেয়ে বড়। মা-বাবা তাঁর প্রাণ। ভাইকে ভীষণ ভালোবাসেন। আর কুকুর? তাদের ছাড়া তো এক মুহূর্তও চলে না সানির।
ক্যানাডায় ছোটবেলা কাটলেও পাঞ্জাবি এই পরিবারের খানাপিনার ধরন ছিল পুরোদস্তুর ইন্ডিয়ান। চারবেলা পাঞ্জাবি খাবার খেয়েই বড় হয়েছেন তাই সানি লিয়ন। বললেন, ‘প্রতি রবিবার গুরুদুয়ারায় যাওয়া ছিল মাস্ট। তখন অন্য কোনও প্ল্যান থাকলে চলত না। খুব ক্লোজ-নিট ফ্যামেলিতে বড় হয়েছি আমি। পরিবারের গুরুত্ব বুঝতে শিখেছি প্রথম থেকেই।’

ক্রাশ, টার্নিং পয়েন্ট

সিনেমা যে করবেন তা নাকি মুম্বই আসার পরেও জানতেন না সানি লিয়ন। বিগ বস সিজন ৫-এ আসার পর জীবনটাই কেমন বদলে গেল। তিনি পাকাপাকি ইন্ডিয়ান হয়ে গেলেন। বললেন, ‘ভারতে আসার আগেও নিজের দেশ সম্বন্ধে যথেষ্ট জানতাম। তবে একটাই আপসোস, আমার গায়ে একটা সেকসি লেবেল সেঁটে দিল আমারই দেশের লোকজন।’ আমির খান নাকি সানি লিয়নের প্রথম ক্রাশ! কেন? আমির তো আলাদা করে রোম্যান্টিক ইমেজ রাখেন না। সারাক্ষণ ইমেজ ভাঙছেন বরং তিনি। তাঁর চেয়ে বলিউডে অনেক বেশি রোম্যান্টিক ইমেজ তো শাহরুখের। তবু আমিরকেই মনে ধরল? একটু হেসে সানি বললেন, ‘ধরল তো। যার যাতে মজে মন... বুঝলেন না। রইস করতে গিয়ে শাহরুখের সঙ্গে কাজ করলাম। আইটেম সং-টায় অবশ্য আমার সেক্স অ্যাপিলটাকেই কাজে লাগানো হয়েছে। যাকগে।’

কাজ পাগল, আন্তরিক

ভীষণ কাজ পাগল মহিলা তিনি। আবার একই সঙ্গে খুব আন্তরিকও বটে। নিজেই বললেন ইউনিটের সবার সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশাই তাঁর নিয়ম। সবাই ঠিক সময় খেল কি না, কারও কোনও অসুবিধে হচ্ছে কি না এই সবই সানির নখদর্পণে থাকে কাজ করার সময়। নিজের অফিস স্টাফদের সঙ্গেও দারুণ বন্ধুত্ব সানি লিয়নের। সবাই তাঁর কাছে নিজের সুবিধে অসুবিধের কথা খুলে বলতে পারে। এটাই নাকি তাঁর ব্যক্তিত্বের ইউ এস পি।

ড্যানি আমার ড্যানি

কয়েকটা জিনিস ছাড়া একদণ্ড চলে না সানি লিয়নের। প্রথমটা তাঁর স্বামী। ‘ড্যানি আমার জীবনের ধ্রুবতারা। ওকে ভালোবাসতে না পারলে জীবনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যেত। সেদিনের কথাটা আজও মনে আছে, ২০০৮ সাল। মা চলে গেলেন। আমি কাজের অজুহাতে বাইরে ছিলাম। সঠিক সময়ে আসতে পারিনি মায়ের কাছে। মায়ের শেষ সময়ে কাছে থাকতে না পারায় একটা প্রচণ্ড অপরাবোধ হয়েছিল আমার। আজও আছে। কিন্তু সেদিন, যেদিন মা চলে গেলেন, ড্যানি ছিল আমার সঙ্গে। পাগলের মতো করছিলাম আমি। কাঁদছিলাম, ভুল বকছিলাম, দৌঁড়ে বেড়াচ্ছিলাম, ওকে তাড়িয়ে দিচ্ছিলাম বারবার। ও যায়নি। আমায় আঁকড়ে ধরে বসেছিল। আমায় শান্ত করেছিল। কোনও সান্ত্বনা বাক্য লাগেনি, ওর উপস্থিতিটাই আমার কাছে বামের মতো কাজ করেছিল।’ এছাড়াও ভাইকেও ভীষণ ভালোবাসেন সানি লিয়ন। তাকে অনেকদিন না দেখলে মন কেমন করে।

টিপটপ

স্কিন কেয়ার সানি লিয়নের জীবনের একটা ভীষণ জরুরি অঙ্গ। স্কিন কেয়ার ছাড়া নাকি একমুহূর্ত চলে না তাঁর। যত ক্লান্তই থাকুন না কেন, স্কিন কেয়ার রুটিনে কোনও হেরফের হওয়ার নয়। ওটা মাস্ট। ‘ত্বকের যত্ন নিন’ মন্ত্রে বিশ্বাসী সানি লিয়ন বললেন, ‘আমরা শো বিজনেসে আছি। সৌন্দর্য অটুট রাখাই আমাদের কাজ। ভালো দেখতে না থাকলে, চামরা টানটান না থাকলে লোকে আমাদের দেখবে কেন? তাই ত্বকের যত্ন নিই নিয়ম মাফিক।’ তা কেমন এই স্কিন কেয়ার রুটিন? ‘ক্লেনজিং, টোনিং আর ময়েশ্চারাইজিং।’ জানালেন সানি লিয়ন। স্কিন কেয়ার বিষয়ে একটা ছোট্ট টিপসও শেয়ার করেছেন তিনি। বলেছেন মুখ ধোয়ার সময় যে কোনও ঘরোয়া স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত। সাবানের চেয়ে তা অনেক বেশি কাজ করে। আর গোলাপজল দিয়ে টোন করলে চামরা টানটান থাকে অনেক বয়স পর্যন্ত। ময়েশ্চারাইজিং অবশ্য ভালো কোনও বাজারি ক্রিম দিয়েই করা ভালো।

প্রথম দেখা

এক বন্ধুর মাধ্যমেই নাকি সানি লিয়ন আর ড্যানিয়েল ওয়েবারের প্রথম আলাপ হয়। লাস ভেগাসে জানালেন সানি। একটু লাজুক হেসে সানি লিয়ন বলেন, ‘প্রথম আলাপটা শুধু হাই হ্যালো পর্যন্তই গড়িয়েছিল। আমি তো মনে মনে ভাবলাম আমায় হয়তো ভালোই লাগেনি। ওমা পরের দিনই আমার হোটেলে হাজির ড্যানি। পরে বলেছিল ওর কাছে নাকি আমিই লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট। অদ্ভুত ভালোবাসার কায়দা জানে ড্যানিয়েল। মুখে কিছু না বললেও আচরণে বুঝিয়ে দেয় ও আমার কথাই ভাবছে। সারাদিন হয়তো কথাই হল না দু’জনের, ওমা বাড়িতে গিয়ে দেখি সেন্টার টেবিলের ওপর গোলাপের তোড়া অপেক্ষমান। আমাদের ছিল লং ডিসটেন্স লাভ। তাও ড্যানি হার মানেনি। ও না থাকলে আমি কবেই হারিয়ে যেতাম।

কমলিনী চক্রবর্তী

হলিউডি নকশায় বলিউড মাত

১. আনজানা আনজানি: রণবীর কাপুর এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘আনজানা-আনজানি’ ছবির পোস্টারের সঙ্গে মিল পাওয়া গিয়েছে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া হলিউড ছবি ‘অ্যান এডুকেশন’-এর পোস্টারের।
২. জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা: জাভেদ আখতারের মেয়ে যোয়া আখতার পরিচালিত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র সঙ্গে ২০০৫ -এ মুক্তিপ্রাপ্ত হলিউড ছবি ‘লর্ডস অব ডগটাউন’-এর পোস্টারের অদ্ভূত মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
৩. এজেন্ট বিনোদ: ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল হলিউডের সুপারহিট অ্যাকশন কমেডি ছবি ‘জনি ইংলিশ’। ওই ছবির সঙ্গে সইফ আলি খান অভিনীত ‘এজেন্ট বিনোদ’ ছবির পোস্টারের মিল আছে।
৪. রাউডি রাঠোর: অক্ষয় কুমার অভিনীত অ্যাকশন ফিল্ম ‘রাউডি রাঠোর’ আর ১৯৯৮ সালের হলিউড অ্যাকশন ফিল্ম ‘ দ্য রিপ্লেসমেন্ট কিলার’-এর পোস্টার হুবহু এক।
৫. মার্ডার থ্রি: ২০০৯ সালের হলিউড হরর ফিল্ম ‘জেনিফার্স বডি’র পোস্টার আর ২০০৩ সালের বলিউড ছবি ‘মার্ডার থ্রি’র পোস্টারের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন।
৬. অতিথি কব যাওগে: রবিন উইলিয়ামস অভিনীত বিখ্যাত ছবি ‘লাইসেন্স টু ওয়েড’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৭ সালে। যার পোস্টারের সঙ্গে অজয় দেবগন এবং কঙ্কনা সেনশর্মার ‘অতিথি কব যাওগে’ ছবির পোস্টার প্রায় এক।
৭. দিলওয়ালে: ২০১৪ সালের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া হলিউড ছবি ‘দ্য বেস্ট অফ মি’র সঙ্গে মিলে গিয়েছিল শাহরুখ খান-কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ চবির পোস্টার। তবে, পরে পোস্টারটি তুলে নেওয়া হয়। নতুন পোস্টার বাজারে ছাড়া হয়।
৮. হালচাল: ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত মণিরত্নমের পরিচালিত ‘হালচাল ’ ছবি এবং ২০০২ সালের হলিউড ফিল্ম ‘মাই বিগ ফ্যাট গ্রিক ওডেয়িংয়ে’র পোস্টারের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুখ আলাদা।
৯. রা-ওয়ান: ২০০৫ সালের হলিউডের সুপারহিরো ফিল্ম ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’ আর ২০১১ সালের শাহরুখ খান অভিনীত বলিউডের সুপারহিরো ছবি ‘রা-ওয়ানে’র পোস্টার এক।
১০. ফ্যান্টম: সইফ আলি খান এবং ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত কবির খান পরিচালিত ‘ফ্যান্টম’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫তে। এই ছবির পোস্টারের সঙ্গে ২০১৩ সালের আমেরিকান অ্যাকশন থ্রিলার ‘হোমফ্রন্ট’র পোস্টারের অদ্ভূত মিল পাওয়া যায়।

শাম্ব মণ্ডল
 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta